শুক্রবার, অক্টোবর ৯, ২০২৬

শত বছরের রসায়ন রহস্যের সমাধান,নোবেল পেলেন কাগান ও সোয়াই

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-০৮ ১৬:০২:২১
ফাইল ছবি

অণুর আয়না-প্রতিবিম্বের রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ২০২৬ সালের রসায়নে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন ফরাসি বিজ্ঞানী অঁরি বি. কাগান ও জাপানি বিজ্ঞানী কেনসো সোয়াই। অপ্রতিসম জৈব সংশ্লেষণে অ-রৈখিক প্রভাব ও স্ব-অনুঘটন আবিষ্কারের স্বীকৃতি হিসেবে তাঁদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে।
বুধবার স্টকহোমে রয়্যাল সুইডিশ একাডেমি অব সায়েন্সেস এ বছরের রসায়নের নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করে। তাঁদের গবেষণা রসায়নের শত বছরের পুরোনো একটি প্রশ্নের উত্তর খুঁজে দিয়েছে—জীবজগতে একই ধরনের অণুর দুটি আয়না-প্রতিবিম্বের মধ্যে কেন সাধারণত একটিই প্রাধান্য পায়।
অ্যামিনো অ্যাসিডসহ অনেক অণু ডান ও বাঁ হাতের মতো পরস্পরের প্রতিবিম্ব দুটি রূপে থাকতে পারে। রাসায়নিকভাবে কাছাকাছি হলেও এই দুই রূপ জীবদেহে একইভাবে কাজ করে না। অথচ জীবজগতে নির্দিষ্ট একটি রূপের আধিপত্য দেখা যায়। এই বৈশিষ্ট্যকে বলা হয় সমহাতিত্ব।
সমস্যাটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে ওষুধ তৈরির ক্ষেত্রে। কৃত্রিমভাবে কোনো অণু তৈরি করলে অনেক সময় তার দুই প্রতিবিম্বরূপের মিশ্রণ পাওয়া যায়। কিন্তু ওষুধের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট একটি রূপই কাঙ্ক্ষিত প্রভাব দিতে পারে। ফলে একটি নির্দিষ্ট রূপকে বেশি পরিমাণে তৈরি করার কার্যকর পদ্ধতি উদ্ভাবন রসায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ ছিল।
এই সমস্যার সমাধানের পথে বড় অগ্রগতি আনেন অঁরি কাগান। ১৯৮৬ সালে তিনি রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের এমন একটি পদ্ধতি দেখান, যার মাধ্যমে একটি নির্দিষ্ট আয়না-প্রতিবিম্বর উৎপাদন অন্যটির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব হয়।
পরবর্তী সময়ে কেনসো সোয়াই এই গবেষণাকে আরও এগিয়ে নেন। ১৯৯৫ সালে তিনি এমন একটি রাসায়নিক বিক্রিয়া উপস্থাপন করেন, যেখানে উৎপন্ন পদার্থ নিজেই পরবর্তী বিক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে একটি নির্দিষ্ট প্রতিবিম্বর আধিপত্য বাড়াতে পারে। ২০০৩ সালে তিনি পরীক্ষাগারে এমন বিক্রিয়া প্রদর্শন করেন, যেখানে সম্ভাব্য দুই রূপের মধ্যে একটি রূপের উৎপাদন প্রায় একচেটিয়াভাবে ঘটানো সম্ভব হয়। 
নোবেল কমিটির রসায়ন বিভাগের চেয়ারম্যান হেইনার লিঙ্কে বলেন, কাগান ও সোয়াই কীভাবে সমহাতিত্ব স্বতঃস্ফূর্তভাবে সৃষ্টি হতে পারে, সেই এক শতাব্দীর বেশি পুরোনো রহস্যের সমাধান করেছেন। তাঁদের উদ্ভাবিত রাসায়নিক বিক্রিয়াগুলো অসাধারণ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
দুই বিজ্ঞানীর গবেষণার ব্যবহারিক গুরুত্বও ব্যাপক। বিশেষ করে ওষুধ তৈরিতে কাঙ্ক্ষিত অণুর নির্দিষ্ট প্রতিবিম্বরূপ বেছে নেওয়ার সুযোগ চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ একই অণুর দুই প্রতিবিম্বরূপ মানবদেহে ভিন্ন প্রভাব ফেলতে পারে।
৯৫ বছর বয়সী অঁরি কাগান ফ্রান্সের ইউনিভার্সিটি প্যারিস-সুদে দীর্ঘদিন অধ্যাপনা করেছেন এবং বর্তমানে ইমেরিটাস অধ্যাপক। অপ্রতিসম অনুঘটন বিষয়ে তাঁর গবেষণা জৈব রসায়নের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত।
জাপানি রসায়নবিদ কেনসো সোয়াই টোকিও ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্সের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত। তাঁর নামে পরিচিত স্ব-অনুঘটন বিক্রিয়া অণুর একটি নির্দিষ্ট প্রতিবিম্বরূপের উৎপাদন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
২০২৬ সালের এই পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা। দুই বিজয়ীর মধ্যে তা সমানভাবে ভাগ হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বর স্টকহোমে আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের হাতে পদক, সনদ ও পুরস্কারের অর্থ তুলে দেওয়া হবে।
গত বছর ধাতব-জৈব কাঠামো উদ্ভাবনের জন্য রসায়নে নোবেল পেয়েছিলেন সুসুমু কিতাগাওয়া, রিচার্ড রবসন ও ওমর এম. ইয়াগি। 

রসায়ন নোবেল, কাগান, সোয়াই


এ জাতীয় আরো খবর