বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের আইনি সুযোগ নেই: সড়ক মন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-০৮ ২১:২৮:৩৬
ছবি: সংগৃহীত।

দেশের কোনো জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা অটোরিকশা চলাচলের আইনগত অনুমোদন নেই বলে স্পষ্ট করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথ মন্ত্রী শেখ রাবিউল আলম।
তবে অটোরিকশা চালনা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশায় দেশের বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবন-জীবিকা ও কর্মসংস্থান জড়িত থাকায় বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। ধাপে ধাপে একটি টেকসই ও সুশৃঙ্খল নীতিমালার আওতায় এ খাতকে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান মন্ত্রী।
আজ রাজধানীর ধানমন্ডি লেকে মাছের পোনা অবমুক্ত ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। সামাজিক সংগঠন ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাব এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
শেখ রাবিউল আলম বলেন, সরকার কোনোভাবেই জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলকে সমর্থন করে না। এ ধরনের যান নিয়ন্ত্রণে ইতোমধ্যে একাধিক সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কোন সড়কে অটোরিকশা চলতে পারবে এবং কোন সড়কে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে, সে বিষয়ে একটি গ্রহণযোগ্য ও সমন্বিত নীতিমালা এখন জরুরি।
তিনি বলেন, জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট। এ চলাচল দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। স্থানীয় ও সংযোগ সড়কে অটোরিকশার চলাচল কীভাবে সুশৃঙ্খল করা হবে এবং মহাসড়কে এসব যানবাহনের প্রবেশ কীভাবে পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে, নীতিমালায় তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা থাকতে হবে।
মন্ত্রী জানান, অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে মহাসড়ক পুলিশ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সমন্বয়ে নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে প্রস্তাবিত নীতিমালায় জাতীয় মহাসড়কে অটোরিকশা চলাচলের কোনো আইনগত অনুমোদনের সুযোগ রাখা হবে না।
হঠাৎ করে কঠোর সিদ্ধান্ত না নিয়ে পর্যায়ক্রমে ব্যবস্থা নেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, দেশের লাখ লাখ মানুষ বর্তমানে অটোরিকশা চালনা ও সংশ্লিষ্ট পেশার সঙ্গে যুক্ত। তারাও সমাজেরই অংশ। একসঙ্গে যানবাহন বন্ধ করে দিলে অনেক মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ার পাশাপাশি সামাজিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তাই শুধু যানবাহন বন্ধ করাকে সমাধান হিসেবে না দেখে বিকল্প কর্মসংস্থান এবং সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে একটি বাস্তবসম্মত সমাধান খোঁজা হচ্ছে।
অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণের ফলে সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন এমন মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি সরকার সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করবে বলেও জানান মন্ত্রী। অনুমোদিত স্থানীয় রুটের আওতায় তাদের কীভাবে আনা যায় এবং কীভাবে নিয়মের মধ্যে অটোরিকশা পরিচালনা করা যায়, তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অটোরিকশা চলাচলে অনুমোদিত আঞ্চলিক বা অভ্যন্তরীণ সড়কেও চালকদের দক্ষতা ও বয়সের বিষয়ে ন্যূনতম যোগ্যতা নির্ধারণ করা হবে বলে জানান শেখ রাবিউল আলম। ফিটনেসবিহীন যানবাহন এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের দায়িত্ব সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, উন্নতমানের সড়ক ও মহাসড়ক নির্মাণ, সম্প্রসারণ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করাই মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান কাজ। নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী এসব কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মহাসড়কের শৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব কোনো একক মন্ত্রণালয়ের নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, মহাসড়ক ব্যবস্থাপনার সঙ্গে একাধিক মন্ত্রণালয়, দপ্তর এবং মহাসড়ক পুলিশ যুক্ত। সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে সমন্বিতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। মহাসড়কে কোনো অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলার সম্পূর্ণ দায় এককভাবে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ওপর দেওয়া যৌক্তিক নয়। এ ক্ষেত্রে সার্বিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে ধানমন্ডি ইয়ুথ ক্লাবের সভাপতি ও ঢাকা মহানগর পূর্ব ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক শেখ খালিদ হাসান জ্যাকীর সভাপতিত্বে সংগঠনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

অটোরিকশা, মহাসড়ক, নীতিমালা


এ জাতীয় আরো খবর