মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-০১ ০৯:১৬:৫৬
ফাইল ছবি

দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের সঙ্গে বিএনপির পথচলা জড়িয়ে আছে।
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দেওয়া এক বাণীতে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী ও দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি দলের প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন এবং বিভিন্ন সময়ে আত্মত্যাগকারী নেতাকর্মীদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন।
বাণীতে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী দেশের মানুষের জন্য আনন্দ, উদ্দীপনা ও প্রেরণার দিন। ১৯৭৮ সালের এই দিনে ঢাকার রমনা বটমূলের খোলা চত্বরে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর মতে, বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাসে দলটির প্রতিষ্ঠা ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি মানুষের বাকস্বাধীনতা, ব্যক্তিস্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার সংকুচিত করে একদলীয় ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলগুলোর রাজনীতি করার অধিকার ফিরিয়ে দেন। এর ধারাবাহিকতায় সময়ের প্রয়োজনেই বিএনপি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং দেশে বহুমাত্রিক গণতন্ত্রের নতুন যাত্রা শুরু হয়।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তারেক রহমান তাঁকে স্বাধীনতার ঘোষক, সফল রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়াকেও স্মরণ করেন।
তারেক রহমান বলেন, বেগম খালেদা জিয়া তাঁর নেতৃত্ব ও ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে বিএনপিকে দেশের মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ক্ষেত্রেও বিএনপি জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছে। দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র যখনই হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই দলের নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগ করেছেন।
বিএনপির প্রতিষ্ঠার পর থেকে গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা প্রাণ দিয়েছেন বা আহত হয়েছেন, তাদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ যখনই অবাধ, সুষ্ঠু ও নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। বিভিন্ন সময়ে দলটির সরকার সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন, নারীশিক্ষার প্রসারসহ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী ও প্রাতিষ্ঠানিক করার লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, গণতন্ত্র সমুন্নত রাখা এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বিএনপির বিভিন্ন উদ্যোগের কারণেই দলটি দেশের মানুষের কাছে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হয়েছে।
দীর্ঘ দেড় দশকের শাসন-শোষণের অবসানের পর অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের কাছে জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিএনপি তাদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে চায়।
বাংলাদেশকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অক্ষুণ্ন রেখে বিএনপির নেতাকর্মী, সমর্থক ও শুভানুধ্যায়ীরা দেশ ও মানুষের সেবায় আগামী দিনেও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখবেন।
বাণীর শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণই দলের সব রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস। একটি জনকল্যাণমূলক, গণতান্ত্রিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের মধ্যেই বিএনপির পরিচয় নিহিত রয়েছে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে তিনি গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় দেশবাসীকে আবারও শুভেচ্ছা জানান।

বিএনপি, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, গণতন্ত্র


এ জাতীয় আরো খবর