মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১, ২০২৬

১২ বছর পর নতুন বেতন কাঠামো,সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার ও সর্বনিম্ন ২০ হাজার টাকা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-৩১ ২৩:০৮:৩৯
ছবি: সংগৃহীত।

বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নবম জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন করেছে সরকার। নতুন কাঠামোয় প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর হবে।
দীর্ঘ ১২ বছর পর সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন করা হলো। সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয় ও সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান বিবেচনায় নিয়ে নতুন কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে।
আজ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৯তম বৈঠকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুমোদন দেওয়া হয়।
বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত তুলে ধরে সন্ধ্যায় তথ্য অধিদফতরের সম্মেলনকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি জানান, নতুন বেতন স্কেলের মূল বেতন একসঙ্গে পুরোপুরি কার্যকর না করে তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে মূল বেতনের ৩০ শতাংশ কার্যকর হতে পারে। পরবর্তী বছরের শুরুতে আরও ৩৫ শতাংশ এবং তার পরবর্তী অর্থবছরের জুলাই থেকে অবশিষ্ট অংশ কার্যকর করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এরপর ওই অর্থবছরের জানুয়ারি থেকে বিভিন্ন ভাতা কার্যকরের সুপারিশ করা হতে পারে।
নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সশস্ত্রবাহিনীর জন্য যৌথবাহিনী নির্দেশাবলী ২০২৬-ও অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এটিও ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান,জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ এবং সশস্ত্রবাহিনী বেতন কমিটি-২০২৫-এর প্রতিবেদন পাওয়ার পর সরকার সুপারিশ প্রণয়নের জন্য একটি সচিব কমিটি গঠন করেছিল। ওই কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা।
নতুন কাঠামোয় সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতনের অনুপাত বিদ্যমান ১:১.৯৪৫ থেকে কমিয়ে ১:১.৭৮ করা হয়েছে। এর ফলে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ১৪২ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের বেতন ১০০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।
সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী এক গ্রেড এক পেনশন ব্যবস্থা চালুর প্রতিশ্রুতি রয়েছে। সামরিক ও অসামরিক উভয় ক্ষেত্রে একই সঙ্গে এ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের প্রয়োজন থাকলেও বিপুল আর্থিক সংশ্লেষ এবং ২০১৯ সালের আগে অবসর নেওয়া অসামরিক কর্মচারীদের তথ্য না থাকায় তা পর্যায়ক্রমে ২০৩০ সালের মধ্যে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে এরই মধ্যে অবসরভোগী পেনশনধারীদের জীবনযাত্রার মান ও বার্ধক্যের আর্থিক নিরাপত্তা বিবেচনায় নিয়ে স্ল্যাবভিত্তিক নিট পেনশন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মাসে ৯ হাজার টাকা বা তার কম নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের পেনশন ১০০ শতাংশ বাড়বে। ৯ হাজার ১ টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ক্ষেত্রে বাড়বে ৭৫ শতাংশ।
এ ছাড়া ২০ হাজার ১ টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৬৫ শতাংশ, ৩০ হাজার ১ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পেনশনভোগীদের ৬০ শতাংশ এবং ৪০ হাজার ১ টাকা বা তার বেশি নিট পেনশন পাওয়া ব্যক্তিদের ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি করা হবে।
সরকারের হিসাবে, এর ফলে দীর্ঘদিন আগে অবসরে যাওয়া এবং তুলনামূলক কম পেনশন পাওয়া ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি সুবিধা পাবেন।
নতুন বেতন কাঠামোয় প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন সন্তানের জন্য প্রথমবারের মতো প্রতিবন্ধী সন্তান ভাতা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি সন্তানের জন্য মাসে ৩ হাজার টাকা করে এ ভাতা দেওয়া হবে।
ইন্টারনেট ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যয় বিবেচনায় মোবাইল ভাতার পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। এতদিন কেবল পঞ্চম গ্রেডের কর্মচারীরা এ সুবিধা পেতেন। নতুন বেতন স্কেলে সব গ্রেডের সরকারি কর্মচারী মোবাইল ভাতার আওতায় আসবেন।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক ও অসামরিক কর্মচারী এবং সোয়া ৯ লাখ অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী ও অন্যান্য যোগ্য সুবিধাভোগী উপকৃত হবেন।
এ জন্য সরকারের অতিরিক্ত বার্ষিক ব্যয় হবে আনুমানিক ১ লাখ ৫ হাজার ৫৮০ কোটি টাকা। মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট অর্থবছরগুলোর বাজেটে এ অর্থের সংস্থান রাখা হয়েছে।
সরকারের মতে, নতুন বেতন কাঠামো সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মউদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গঠনে ভূমিকা রাখবে।
নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের জন্য অর্থ বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রজ্ঞাপন, আদেশ ও নির্দেশনা জারি করবে। এসব নির্দেশনায় বেতন নির্ধারণের পদ্ধতি, বিভিন্ন ভাতা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী অন্যান্য সুবিধার বিস্তারিত বিধান উল্লেখ থাকবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর ও সংস্থাগুলোকে অনুমোদিত কাঠামো যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হবে।

বেতন স্কেল, সরকারি কর্মচারী, পেনশন


এ জাতীয় আরো খবর