শুক্রবার, সেপ্টেম্বর ৪, ২০২৬

ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়া কোনো স্লোগান নয়,সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-০৩ ২৩:৩৪:১৯
ছবি: সংগৃহীত।

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করার লক্ষ্যকে কোনো স্লোগান নয়, বরং সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, চলতি দশকে রপ্তানি, বিনিয়োগ ও আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতির আকার দ্বিগুণ করতে চায় সরকার।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে নতুন সরকার নতুন দিকনির্দেশনা নিয়ে কাজ করছে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জনে রপ্তানি বাড়ানো, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং আর্থিক শৃঙ্খলা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সরকার ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগারের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পক্ষে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. মিজানুর রহমান এবং ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের পক্ষে মহাপরিচালক (দেশভিত্তিক কর্মসূচি) আনাসি আইসামি চুক্তিতে সই করেন।
প্রকল্পটি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের অধীনে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন বাস্তবায়ন করবে। এটি বাস্তবায়িত হলে সংস্থাটির বর্তমান পরিশোধন সক্ষমতা বছরে ১৫ লাখ মেট্রিক টন থেকে বেড়ে ৪৫ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত হবে। এর ফলে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানের জ্বালানি উৎপাদন বাড়বে এবং আমদানিকৃত পরিশোধিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে।
বাংলাদেশকে একটি উৎপাদনকেন্দ্র এবং এ অঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, পোশাকশিল্প দেশের প্রথম বড় প্রবৃদ্ধির গল্প তৈরি করেছে। এখন ইলেকট্রনিকস, ওষুধ, হালকা প্রকৌশল ও সবুজ শিল্পকে পরবর্তী প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মানুষের মর্যাদা নিশ্চিত করে এমন শিল্প প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি হেলথ কার্ড চালুর কাজও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাত, বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বিঘ্ন, জ্বালানি ও খাদ্যনিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর এবং উন্নয়ন অর্থায়নের ব্যয় বৃদ্ধি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। কোনো দেশের পক্ষেই এককভাবে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এ কারণে পারস্পরিক অংশীদারত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
বাংলাদেশ ও ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের মধ্যে নতুন ধরনের অংশীদারত্ব গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতের সহযোগিতা আরও উদ্ভাবনী, দ্রুত সাড়াদানকারী ও ফলাফলভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। বাংলাদেশের পরিবর্তিত উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে এই সহযোগিতা সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। ব্যাংকটির গ্রুপ চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসেরকে বাংলাদেশে স্বাগত জানিয়ে পুনর্নির্বাচিত হওয়ায় তাঁকে অভিনন্দন জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত পাঁচ বছরে ড. আল জাসেরের নেতৃত্বে ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক সদস্যদেশ ও মুসলিম উম্মাহর জন্য উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদেও আরও বড় সাফল্য আসবে বলে আশা প্রকাশ করে বাংলাদেশের সরকার তাঁর সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
পূর্বাঞ্চলীয় শোধনাগার প্রকল্পের অর্থায়ন চুক্তিকে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এটি শুধু একটি আর্থিক লেনদেন নয়, বরং বাংলাদেশের প্রতি ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আস্থার প্রকাশ। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ব্যাংকটি বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সহযোগিতা করে আসছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়নের সুযোগ তৈরিতে ইসলামি কনসেশনাল ফান্ড প্রতিষ্ঠায় ড. আল জাসেরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশ এই তহবিল থেকে সুবিধা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে সদস্যদেশগুলোর জন্য সহজ শর্তে অর্থায়ন আরও বাড়ানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
সম্ভাবনাময় প্রকল্প চিহ্নিত করতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের কর্মকর্তারা ঢাকায় ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের আঞ্চলিক কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংকের বৃহত্তর ভূমিকার বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, সদস্যদেশগুলোর নিজ নিজ সক্ষমতা ও শক্তিকে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সংযোগ বাড়াতে পারে ব্যাংকটি। কোনো সদস্য জ্বালানি খাতে এগিয়ে থাকলে অন্য সদস্য অবকাঠামো খাতে এগিয়ে থাকতে পারে। এসব সক্ষমতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করে সদস্যদেশগুলোকে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার সুযোগ করে দেওয়া সম্ভব।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের পর ইসলামি উন্নয়ন ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

অর্থনীতি, বিনিয়োগ, শোধনাগার


এ জাতীয় আরো খবর