বুধবার, সেপ্টেম্বর ৯, ২০২৬

ইরানের পাঁচ তেলবাহী ট্যাংকারে মার্কিন হামলা,জর্ডানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-০৯ ০৯:৩১:২৯
ছবি: সংগৃহীত।

ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়ে সেগুলো অচল করে দেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, গত দুই দিনে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুবার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল। এর পরিপ্রেক্ষিতেই ওমান উপসাগর ও খার্গ দ্বীপের কাছে ট্যাংকারগুলোতে হামলা চালানো হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন হামলার জবাবে জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ইরান ২০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে জানিয়েছে জর্ডান। দেশটির সামরিক বাহিনীর দাবি, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। বাকি দুটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি বলে জানিয়েছে জর্ডান।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান সংঘাত ছয় মাসে গড়ানোর মধ্যে উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার পাশাপাশি ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ জারির কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে বলা হয়, গত দুই দিনে আইআরজিসি একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে দুই দফা হামলার চেষ্টা করে। তবে মার্কিন জাহাজটি উভয় হামলা এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয় এবং এতে কোনো মার্কিন সেনা বা কর্মী আহত হননি।
এরপর প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ হিসেবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালানো হয় বলে জানিয়েছে সেন্টকম। হামলার পর জাহাজগুলো অচল হয়ে পড়ে বলে দাবি করেছে মার্কিন বাহিনী।
হামলার শিকার ট্যাংকারগুলোর মধ্যে এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন-১ এবং এম/টি রিয়েস্কো নামের চারটি জাহাজ ওমান উপসাগরে অবস্থান করছিল। এ ছাড়া খার্গ দ্বীপের কাছে এম/টি দেরিয়া নামের আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।
সেন্টকম জানিয়েছে, হামলার আগে সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর কর্মীদের জাহাজ থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। পরে জাহাজগুলোতে হামলা চালিয়ে অচল করে দেওয়া হয়।
খার্গ দ্বীপের কাছে হামলার ঘটনা ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিও নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি এ দ্বীপের মাধ্যমে হতো বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পর জাহাজের কর্মীদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে জানায় তারা। ওমান উপসাগরের দক্ষিণাঞ্চলে জাস্ক বন্দরের কাছেও একটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে আইআরআইবি।
ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘বেশ কয়েকটি’ বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে জর্ডানে অবস্থিত আল-আজরাক ঘাঁটিতে তীব্র ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি।
ইরানি বাহিনী আরও দাবি করেছে, মার্কিন যুদ্ধবিমান রাখার কাজে ব্যবহৃত একটি হ্যাঙ্গার হামলায় ধ্বংস হয়েছে। এর আগে মার্কিন নৌবাহিনীর ডিডিজি-১১৯ ও ডিডিজি-৫৩ ডেস্ট্রয়ারেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল আইআরজিসি। তাদের ভাষ্য, ওই হামলায় জাহাজ দুটিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এদিকে কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরে অবস্থানরত তেলবাহী ট্যাংকারগুলোকেও হুমকি দিয়েছে আইআরজিসি। এসব জাহাজে থাকা কর্মীদের দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরানি বাহিনী।
নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ার প্রভাব এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার ৮ সেপ্টেম্বর সংঘাতের মধ্যে একপর্যায়ে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪৬ ডলারে উঠে যায়।
হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা হয়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এর আগে ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদোল্লাহি হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরানের তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা হলে পুরো অঞ্চলে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানো হবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ইরানের জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে ওয়াশিংটন। কলম্বিয়া সফরের সময় সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ইরান যতবার মার্কিন নৌযানে হামলার চেষ্টা করবে, ততবার একটি করে ইরানি ট্যাংকার হারাতে হবে।
এ পাল্টাপাল্টি সামরিক পদক্ষেপের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির ওপর অব্যাহত চাপ আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার পরিস্থিতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

ইরান, ট্যাংকার, হরমুজ


এ জাতীয় আরো খবর