শনিবার, সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

বঙ্গোপসাগরে ফিশিং বোট দুর্ঘটনা,মহেশখালীর ২ জেলের মৃত্যু,নিখোঁজ ২; জীবিত উদ্ধার ৪

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৯-০৪ ০৯:৩৭:৫১

 মহেশখালী(কক্সবাজার)
জীবিকার  তাগিদে  বঙ্গোপসাগরে  মাছ  ধরতে  গিয়ে দুর্ঘটনার   কবলে  পড়েছে  মহেশখালীর   কুতুবজোম ইউনিয়নের একটি ফিশিং বোট। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় বোটে থাকা আট মাঝি-মাল্লার  মধ্যে দুই জেলের মৃত্যু হয়েছে। চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও এখনো দুই জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বঙ্গোপসাগরের নাজিরের টেক পয়েন্টের হারির মুখ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
দুর্ঘটনাকবলিত বোটটির নাম এফবি তাহসিন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, বোটটি মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে ফরিদ আলম মাঝির মালিকানাধীন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আটজন মাঝি-মাল্লা নিয়ে বোটটি মাছ ধরার উদ্দেশ্যে বঙ্গোপসাগরে যায়। গভীর রাতে নাজিরের টেক পয়েন্টের হারির মুখ এলাকায় বোটটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। তবে কী কারণে দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর বোটে থাকা মাঝি-মাল্লারা সাগরে বিপদের মুখে পড়েন। খবর পেয়ে আশপাশে থাকা অন্যান্য মাছ ধরার বোট ও স্থানীয় জেলেরা উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। পরে চারজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। একই সময় দুই জেলেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
নিহত দুই জেলে হলেন কুতুবজোম ইউনিয়নের খোন্দকারপাড়া এলাকার মৃত মোক্তল হোসেনের ছেলে ফয়েজ আহমদ (৫৮) এবং মেহেরিয়াপাড়া এলাকার সোহাগ মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩৪)।
এদিকে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন দুই জেলে। তারা হলেন জাগিরাঘোনা এলাকার আব্দুর রশিদের ছেলে মহিবুল্লাহ এবং খোন্দকারপাড়া এলাকার মৃত মুজিবুর রহমানের ছেলে নুরুল আলম।
নিখোঁজদের সন্ধানে উৎকণ্ঠা,দুই জেলে নিখোঁজ থাকার খবরে তাদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। স্বজনরা প্রিয়জনদের জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় প্রহর গুনছেন।
স্থানীয় জেলেদের সহযোগিতায় নিখোঁজদের সন্ধানে সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে। তবে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মহিবুল্লাহ ও নুরুল আলমের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
কুতুবজোমে শোকের ছায়া,দুর্ঘটনায় দুই জেলের মৃত্যুর খবর কুতুবজোম ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছালে শোকের ছায়া নেমে আসে। নিহতদের স্বজনদের পাশাপাশি স্থানীয়রাও এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, উপকূলীয় এলাকার অসংখ্য পরিবার সরাসরি সাগরে মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল। জীবিকার প্রয়োজনে প্রতিদিনই শত শত জেলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যান। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বৈরী আবহাওয়া, নৌযান বিকল হওয়া কিংবা আকস্মিক দুর্ঘটনা—সব ধরনের ঝুঁকি নিয়েই তাদের জীবিকা নির্বাহ করতে হয়।
দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে প্রশ্ন ‘এফবি তাহসিন’ কীভাবে দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বোটটি ডুবে গেছে কি না, অন্য কোনো নৌযানের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে কি না অথবা অন্য কোনো কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে সেসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং জীবিত উদ্ধার হওয়া মাঝি-মাল্লাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা নিখোঁজ দুই জেলেকে দ্রুত উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ এবং সমুদ্র এলাকায় অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত নিখোঁজ মহিবুল্লাহ ও নুরুল আলমের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর