বন্ধুরা,আগের পর্বের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এবার বৃষ্টির পরের বাস্তব পর্যবেক্ষণ। রাহি,অরণ ও শিসু নিজেরাই দেখে,লিখে এবং বুঝে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে পৌঁছাবে।
রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
নতুন অধ্যায়: 'হারানো জলধারার খোঁজে'
পর্ব-৬৯:
সারারাত বৃষ্টি হয়েছে।
সকালে রাহি ঘুম থেকে উঠেই অরণকে ফোন করল।
-'চলো, আজ আমাদের পরীক্ষা।'
কিছুক্ষণ পর শিসুকে নিয়ে তিনজন বেরিয়ে পড়ল।
সঙ্গে নাসির স্যারও আছেন।
প্রথমে তারা গেল সেই পুরোনো মাঠের কাছে,যেখানে মানচিত্রে হারিয়ে যাওয়া জলধারার চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল।
রাহি খাতা খুলে লিখল-
-'সকাল ৮টা ১০ মিনিট। নিচু জমিতে পানি জমেছে।'
অরণ চারপাশ দেখে বলল,
-'কিন্তু পানি মাঠের মাঝখানেই আটকে আছে। সামনে এগোচ্ছে না।'
তারা আরও কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষণ করল।
তারপর দেখা গেল,জমির এক পাশে পানি ধীরে ধীরে নেমে যাচ্ছে।
শিসু চিৎকার করে বলল,
-'ওইদিকে যাচ্ছে!'
সবাই এগিয়ে গেল।
ঘাসের নিচে সরু একটি নালা।
বৃষ্টির পানি সেখান দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছে পুকুরের দিকে।
রাহির চোখ আনন্দে বড় হয়ে গেল।
-'পুরোনো জলপথটা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি!'
নাসির স্যার বললেন,
-'ঠিক। তবে এর প্রবাহ এখন অনেক দুর্বল। কোথাও মাটি জমেছে,কোথাও আগাছা ও আবর্জনা বাধা তৈরি করেছে।'
অরণ খাতায় লিখল,
-'জলপথ এখনো আছে,কিন্তু বাধাগ্রস্ত।'
তারা পুকুরের দিকে এগিয়ে গেল।
সেখানে দেখা গেল,পানি আগের চেয়ে কিছুটা বেড়েছে।
শাপলাগুলোও পানির সঙ্গে দুলছে।
শিসু খুশিতে বলল,
-'দেখো! পুকুর আবার ভরে উঠছে!'
রাহি বলল,
-'প্রকৃতি নিজের পথ এখনো ভুলে যায়নি।'
হঠাৎ অরণ একটি প্লাস্টিকের বোতল তুলে দেখাল।
-'কিন্তু মানুষ পথটা ভুলিয়ে দিতে পারে।'
তিনজন চুপ হয়ে গেল।
নাসির স্যার বললেন,
-'এই কারণেই শুধু পুকুর পরিষ্কার করলেই হবে না। পানি আসার পথও পরিষ্কার ও নিরাপদ রাখতে হবে।'
রাহি মানচিত্রে তিনটি জায়গা চিহ্নিত করল-
যেখানে পানি জমেছে।
যেখানে পানি আটকে আছে।
আর যেখানে পানি স্বাভাবিকভাবে পুকুরে যাচ্ছে।
তারপর বলল,
-'আমাদের এখন আর অনুমান করার দরকার নেই। আমরা নিজের চোখে দেখেছি।'
অরণ বলল,
-'এবার এই তথ্য গ্রামের বড়দের দেখানো যাবে।'
শিসু বলল,
-'আর সবাইকে বলা যাবে-নালায় ময়লা ফেললে পানি নিজের পথ হারাবে।'
বৃষ্টির পানি তখনও পাতার ডগা থেকে টুপটাপ পড়ছে।
রাহি পুকুরের দিকে তাকিয়ে ডায়েরিতে লিখল-
'আজ আমরা কোনো হারানো নদী খুঁজে পাইনি। পেয়েছি তার চেয়েও কাছের একটি সত্য-আমাদের চারপাশের ছোট জলপথগুলোও বাঁচতে চায়। শুধু তাদের পথটা বন্ধ করে দেওয়া যাবে না।'
তিনজন মানচিত্র গুছিয়ে নিল।
আজ তাদের অভিযান শেষ।
কিন্তু এবার তারা জানে,পরের কাজ কী।
'মানচিত্রটি এবার শুধু দেয়ালে ঝুলবে না-গ্রামের কাজে লাগবে।'
'মানচিত্র যাবে মানুষের কাছে' পরের পর্ব।
রাহি, অরণ ও শিসু এবার তাদের তৈরি করা মানচিত্র নিয়ে গ্রামের মানুষের সামনে বসবে।
তারা দেখাবে কোথায় পানি আটকে যাচ্ছে, কোথায় ময়লা জমছে এবং কোন পথ দিয়ে বৃষ্টির পানি পুকুরে পৌঁছাচ্ছে।
কিন্তু সবাই তাদের কথা একভাবে নেবে না।
কেউ বলবে,'এগুলো তো বহুদিন ধরেই এমন আছে।'
তখন তিন বন্ধুকে 'তর্ক নয়,প্রমাণ দিয়ে বোঝাতে হবে'-একটি ছোট্ট জলপথও কীভাবে পুরো এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সেখান থেকেই শুরু হবে তাদের সবচেয়ে বাস্তব সামাজিক উদ্যোগ।