শনিবার, আগস্ট ২৯, ২০২৬

'বনের প্রান্তে নীল চিহ্ন'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৮-২৯ ১৭:২০:০২
প্রতীকী ছবি

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
নতুন অধ্যায়: 'হারানো জলধারার খোঁজে'
পর্ব-৬৭: 

বনের প্রান্তে পৌঁছাতেই রাহি থমকে দাঁড়াল।
-'ওই যে!'
মাটির ওপর কয়েকটি পুরোনো পাথর পাশাপাশি পড়ে আছে।
অরণ কাছে গিয়ে দেখল,প্রতিটি পাথরে নীল রঙের ক্ষীণ দাগ।

শিসু বলল,
-'এগুলো কি সেই মানচিত্রের চিহ্ন?'

নাসির স্যার বললেন,
-'হতে পারে। তবে আগে খুঁজে দেখতে হবে,এগুলো কেন বসানো হয়েছিল।'

হাবিবুর চাচা একটি পাথর দেখে হঠাৎ বললেন,
-'আমি এই চিহ্ন আগে দেখেছি। ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে এখানে এসেছিলাম।'

রাহি অবাক হয়ে বলল,
-'তখনও কি এখানে পানি ছিল?'
-'বর্ষায় পানি আসত। এই দিক দিয়ে নেমে যেত নিচের জমিতে।'

অরণ চারদিকে তাকাল।
কিছুদূরে মাটির নিচু অংশে ঘাস অন্য জায়গার চেয়ে বেশি সবুজ।

সে বলল,
-'স্যার,ওখানে কি মাটির নিচে পানি থাকতে পারে?'

স্যার মাটি হাতে নিয়ে দেখলেন।
-'মাটি কিছুটা আর্দ্র। তবে শুধু এটুকু দেখে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।'

তারা আর সামনে না গিয়ে জায়গাটির অবস্থান মানচিত্রে চিহ্নিত করল।
রাহি বলল,
-'আমরা তো জলধারাটা পুরোপুরি খুঁজে পেলাম না।'

নাসির স্যার হাসলেন।
-'সব অভিযান একদিনে শেষ হয় না। আজ তোমরা যা পেয়েছ,সেটাই গুরুত্বপূর্ণ-পুরোনো জলপথের কিছু প্রমাণ।'

ফেরার সময় রাহি পাথরগুলোর দিকে তাকিয়ে বলল,
-'এগুলোও তো একরকম স্মৃতি।'

অরণ বলল,
-'আর আমরা সেই স্মৃতিটা আবার মানচিত্রে ফিরিয়ে আনলাম।'

শিসু বলল,
-'তাহলে আজকের কাজ শেষ!'

রাহি হেসে বলল,
-'না। এখন আসল কাজ শুরু-এই তথ্য কীভাবে কাজে লাগানো যায়,সেটা ভাবা।'

তিনজন হাঁটতে হাঁটতে বটবনের দিকে ফিরল।
তাদের হাতে কোনো গুপ্তধন নেই।
কিন্তু আছে একটি পুরোনো জলপথের গল্প,কয়েকটি চিহ্ন এবং নতুন কিছু শেখার আনন্দ।

রাহি ডায়েরিতে লিখল-
'প্রকৃতির অনেক পথ চোখের সামনে থেকেও হারিয়ে যায়। তাকে ফিরিয়ে আনতে প্রথম কাজ হলো-তার অস্তিত্ব মনে রাখা।'

রাহি,অরণ ও শিসু এবার তাদের তৈরি করা জলপথের মানচিত্র নিয়ে গ্রামের মানুষের সঙ্গে বসবে।
কে কোথায় পানি জমতে দেখেছেন?
কোন নালা কখন বন্ধ হয়েছে?
কোন পুকুর আগে কতটা বড় ছিল?
বয়স্ক মানুষের স্মৃতি আর শিশুদের পর্যবেক্ষণ মিলিয়ে তৈরি হবে 'গ্রামের একটি নতুন পরিবেশ-মানচিত্র'।
সেখান থেকেই শুরু হবে তাদের সবচেয়ে বাস্তব ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।


এ জাতীয় আরো খবর