সোমবার, আগস্ট ৩১, ২০২৬

শহীদ ও নিপীড়িতদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-২৯ ২৩:৪১:৩০
ছবি: সংগৃহীত।

গণতন্ত্রের জন্য আত্মত্যাগকারী শহীদ, গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার মানুষ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রত্যাশা পূরণে সরকার দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের হাতে চাকরির নিয়োগপত্র তুলে দেওয়ার অনুষ্ঠানে তিনি এ কথাবলেন। অনুষ্ঠানে ৭৪ জনের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে সরকার। তাঁদের যে অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে, তা কোনোভাবেই পূরণ করা সম্ভব নয়। তারপরও সরকার অতীতে যেমন পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও তেমনি তাঁদের সঙ্গে থাকবে।
অনুষ্ঠানে শহীদ ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের আয়োজন আনন্দের চেয়ে বেদনার। যাঁদের আজ পাশে থাকার কথা ছিল, তাঁদের অনেকেই নেই। তাঁদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশের কোটি মানুষ স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্তির সুযোগ পেয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন,তাঁরা কোথায় এবং কী অবস্থায় আছেন,তা একমাত্র আল্লাহই জানেন। তাঁদের জন্য সবার দোয়া করা উচিত, যাতে মহান আল্লাহ তাঁদের সর্বোত্তম অবস্থায় রাখেন।

মুক্তিযুদ্ধ থেকে জুলাই আন্দোলন-সব আত্মত্যাগের স্বীকৃতি
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সর্বশেষ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আত্মদানকারীদের অবদানের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের বীর যোদ্ধা, বিভিন্ন সময়ে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও ক্ষতিগ্রস্তদের যে স্বপ্ন ও প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়নে সরকার বদ্ধপরিকর।
বাস্তবতার কারণে সব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা সম্ভব না হলেও সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাবে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বড় অর্জনের পেছনে অনেক মানুষের বড় ত্যাগ রয়েছে। তাঁদের অনেকে আজ বেঁচে নেই। যারা জীবন বাজি রেখে দেশের মানুষের জন্য ত্যাগ স্বীকার করেছেন, তাঁদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সরকার সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে।

আত্মত্যাগী পরিবারগুলোই সরকারের শক্তি
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোকে শুধু সরকারের দায়িত্ব হিসেবে দেখতে চান না প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, তাঁদের ত্যাগ, সমর্থন ও সহযোগিতাই সরকারকে আরও উদ্যমের সঙ্গে কাজ করার সাহস জোগাচ্ছে। এসব পরিবারই সরকারের শক্তি ও প্রেরণার অন্যতম উৎস।
শহীদ পরিবারের সদস্যদের সরকারের পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁরাও যেন সরকারকে সহযোগিতা ও উৎসাহ দেন। শহীদসহ সব আত্মত্যাগী গণতান্ত্রিক যোদ্ধার দেশ ও জাতিকে ঘিরে যে প্রত্যাশা ছিল, তা পূরণে সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে গুম-খুনের শিকার পরিবার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা বক্তব্য দেন। তাঁরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে নিজেদের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, হাসান শিপলু, সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন, সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক, শাহরিয়ার পামির এবং আমরা বিএনপি পরিবারের সদস্য মোকছেদুল মোমিন মিথুনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শহীদ পরিবার,জুলাই গণঅভ্যুত্থান,নিয়োগপত্র

 


এ জাতীয় আরো খবর