সবুজ মাঠের দিকে চোখ রেখে বললাম
তুমি স্বাধীনতা চেনো?
একটা উড়ন্ত প্রজাপতি কানের কাছে এসে বলল
সে কয়েকদিন ধরে আটকে আছে এক ফুলের সৌন্দর্য্যে
কিছুতেই তাকে ছেড়ে যেতে পারে না,
ক্ষেতের সূর্যমুখী বলল ইচ্ছে করে দিনের আলো নিভে গেলেও আরো কিছুক্ষণ থাকতে
কিন্তু সূর্য বাবুর চোখ রাঙানিতে ঘুমিয়ে যেতে হয় এক বুক অনিচ্ছা নিয়ে।
নদীর দিকে তাকিয়ে বললাম
তুমি স্বাধীনতা চেনো?
ছোট ছোট মাছেরা এলো কাছে
ফিসফিস করে বলল বড়মাছেদের ভয়ে প্রাণ ওষ্ঠাগত,
বড় মাছেরা এল
কল কল করে বলল আয়ু ফুরানোর আগেই
জেলেদের জালে বন্দি হয় তাদের বেঁচে থাকার স্বাধীনতা।
পাহাড়কে বললাম তুমি স্বাধীনতা চেনো?
নির্লিপ্ত চোখে তাকিয়ে বলল ক্রমাগত খুঁজে চলেছি
শরীর ক্ষতবিক্ষত করে এগিয়ে চলেছি উঁচুতে
বাতাস এসে বাধা দিচ্ছে
ঝড় এসে বসছে প্রশস্ত বুকে
কারো কোনো ক্ষতি হলে আমার মহানত্ব ভেঙে চুরমার করে দেয় মুখের বুলিতে।
মানুষকে বললাম তুমি স্বাধীনতা চেনো?
বাউল বললে ঘর ছাড়ার গানে ঈশ্বর কন্ঠে দেন সাধনার শৃঙ্খল
সাধক খুঁজে ফেরে মুক্তির স্বাধীনতা,
গৃহী মানুষ বললে নির্দিষ্ট কিছুই চেনে না
যে যখন যেভাবে চেনায় সেভাবেই চিনতে হয়
কখনো লাল, কখনো সবুজ, কখনোবা গেরুয়া।