মঙ্গলবার, আগস্ট ১১, ২০২৬

মাতারবাড়ীতে প্রধানমন্ত্রী,উন্নয়ন ঘিরে স্থানীয়দের নতুন প্রত্যাশা

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৮-০৯ ১১:৩৫:৩১
ছবি: সংগৃহীত।

কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলার মাতারবাড়ীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৯ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বিশেষ হেলিকপ্টারে করে তিনি মাতারবাড়ী হেলিপ্যাডে অবতরণ করেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার অবতরণের পর স্থানীয় সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ, কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে শুধু মাতারবাড়ী নয়, পুরো মহেশখালীজুড়েই উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন গুরুত্বপূর্ণ সফরকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ, প্রত্যাশা ও আশাবাদ।
মাতারবাড়ীকে ঘিরে চলমান বৃহৎ উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। তাঁদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের ফলে বৃহৎ প্রকল্পগুলোর কাজ আরও গতিশীল হবে এবং এর সুফল স্থানীয় মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে যুক্ত হবে।
মাতারবাড়ী বর্তমানে দেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও জ্বালানি কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠছে। এখানে নির্মিত হচ্ছে দেশের প্রথম গভীর সমুদ্রবন্দর। পাশাপাশি রয়েছে ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বৃহৎ শিল্প ও অবকাঠামো উন্নয়ন পরিকল্পনা।
সংশ্লিষ্টদের আশা, গভীর সমুদ্রবন্দর চালু হলে দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য, শিল্পায়ন এবং সমুদ্রভিত্তিক অর্থনীতিতে মাতারবাড়ীর গুরুত্ব আরও বাড়বে। এর পাশাপাশি পুরো অঞ্চলকে ঘিরে নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার বড় অংশজুড়ে রয়েছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধার সম্প্রসারণ। তাঁদের দাবি, মাতারবাড়ীতে বাস্তবায়নাধীন বৃহৎ প্রকল্পগুলোতে স্থানীয় জনগণের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি উন্নয়নের সুফল সরাসরি তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে কাজে লাগানো হোক।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, মাতারবাড়ীকে ঘিরে বিপুল উন্নয়ন কর্মকাণ্ড চলছে। এসব উদ্যোগের সুফল যদি স্থানীয় মানুষের জীবন-জীবিকার সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তাহলে মাতারবাড়ী শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎ প্রকল্পের অগ্রগতি, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা এবং সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো সম্পর্কে সরেজমিনে ধারণা নেওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে প্রকল্পগুলোর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও পর্যালোচনা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে মাতারবাড়ীর বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রীর মাতারবাড়ী সফর ঘিরে স্থানীয় মানুষের প্রত্যাশা এখন আরও দৃঢ় হয়েছে। তাঁদের আশা, গভীর সমুদ্রবন্দর, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য বৃহৎ প্রকল্পের পাশাপাশি মাতারবাড়ী কর্মসংস্থান, শিল্পায়ন ও আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থার একটি শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত হবে। আর সেই উন্নয়নের সুফল পৌঁছে যাবে মহেশখালী ও মাতারবাড়ীর সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে।

মাতারবাড়ী, গভীর সমুদ্রবন্দর, উন্নয়ন


এ জাতীয় আরো খবর