বুধবার, আগস্ট ১২, ২০২৬

বন্ধ পাটকলের চাকা ঘুরবে,তিন মিলে ৬১৯ কোটি টাকার বিনিয়োগ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৮-১১ ২০:৩১:২৮
ছবি: সংগৃহীত।

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল আবার উৎপাদনে ফেরানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মিলগুলো চালুর লক্ষ্যে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের সঙ্গে বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশনের (বিজেএমসি) লিজ চুক্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ তথ্য জানান।
চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড এবং খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড লিজ নিয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডের দায়িত্ব নিয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
চুক্তিতে বিজেএমসির পক্ষে সংস্থাটির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কবির উদ্দিন সিকদার স্বাক্ষর করেন। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের পক্ষে কোম্পানি সচিব আমিনুর রহমান এবং হ্যামকো গ্রুপের পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ টি এম মোস্তফা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তির আওতায় বন্ধ থাকা তিনটি মিল আধুনিক ব্যবস্থাপনায় আবার উৎপাদনে ফিরবে। সংশ্লিষ্টদের হিসাবে, তিনটি কারখানা চালু হলে সরাসরি কমপক্ষে ১১ হাজার ৬২৯ মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। এসব প্রতিষ্ঠানে মোট প্রায় ৬১৯ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। তিন মিল থেকে সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ১ হাজার ১৭৫ কোটি টাকা।

জাতীয় জুট মিলে বিনিয়োগ ১৫৭ কোটি টাকা
সিরাজগঞ্জের রায়পুরে অবস্থিত জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হলে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হবে বলে জানানো হয়েছে। সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ ধরা হয়েছে প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

স্টার জুট মিলে বিনিয়োগ ২৫০ কোটি
খুলনার দিঘলিয়ায় অবস্থিত স্টার জুট মিলস লিমিটেডে বিনিয়োগ করা হবে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। উৎপাদন শুরু হলে এখানে ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থান হতে পারে। মিলটির সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা।

প্লাটিনাম জুবিলীতে ২১২ কোটি টাকার পরিকল্পনা
খুলনার খালিশপুরের প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ২১২ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি চালু হলে কমপক্ষে ১ হাজার ১৫৩ জনের কর্মসংস্থান হবে। এর সম্ভাব্য বার্ষিক ব্যবসার পরিমাণ প্রায় ১৭৫ কোটি টাকা হতে পারে।

২০ মিল বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় চালুর উদ্যোগ
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বিজেএমসির উৎপাদন বন্ধ থাকা ২৫টি মিলের মধ্যে ২০টি বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে ১৪টি মিলের ইজারা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে দখল হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসবের মধ্যে ইতোমধ্যে নয়টি মিলে উৎপাদনও শুরু হয়েছে।
সরকারের এই উদ্যোগের ফলে দীর্ঘদিনের অচল পাটকলগুলো আবার উৎপাদনমুখী হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের পাটশিল্পে নতুন গতি ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম, বস্ত্র ও পাট সচিব শরফ উদ্দিন আহমদসহ বিজেএমসি এবং লিজ নেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পাটকল, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান


এ জাতীয় আরো খবর