রবিবার, আগস্ট ১৬, ২০২৬

ইতালিতে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার স্বামী-স্ত্রী ও কন্যার দাফন কোম্পানীগঞ্জে সম্পন্ন

  • ইমাম হোসেন খাঁন :
  • ২০২৬-০৮-১৫ ২৩:১৮:১০

কোম্পানীগঞ্জ(নোয়াখালী)প্রতিনিধি।
ইতালির রাজধানী রোমে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার একই পরিবারের তিন বাংলাদেশী কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যা আরোয়া ইসলাম আরিশার দাফন নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। 
শুক্রবার সকাল ৮টার দিকে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশবাহী বিমানটি অবতরণ করে। স্বজনরা বিমানবন্দর থেকে লাশগুলো গ্রহণ করে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে রওনা হয়ে বিকেল ৩টার দিকে গ্রামের বাড়ীতে পৌঁছায়। এসময় হত্যাকাণ্ডে গুরুতর আহত হয়ে ইতালিতে চিকিৎসাধীন থাকা পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়নও লাশের সাথে বাড়ীতে পৌঁছান।
একই দিন বাদ মাগরিব কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের শিশু নিকেতন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাদের দাফন করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামাল উদ্দিন বাবুল (৩৯), তার স্ত্রী (৩৮) ও তাদের পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আরোয়া ইসলাম আরিশা। একই ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন পরিবারের একমাত্র ছেলে অয়ন। তিনি শুক্রবার বিকালে লাশের সঙ্গে গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে জানাজা ও দাফনে অংশ নেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন রাতে ইতালির রোমের পার্শ্ববর্তী ক্যাসালোত্তি এলাকার ভিয়া মন্তিলিওর একটি অ্যাপার্টমেন্টে ছুরিকাঘাতে কামাল উদ্দিন বাবুল, তার স্ত্রী ও মেয়ে নিহত হন। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনজনের লাশ উদ্ধার করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের ছেলে অয়নকে উদ্ধার করে স্থানীয় জেমেলি পলিক্লিনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত ১১ আগস্ট ইতালির স্থানীয় সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রোমের ক্যাসালোত্তি এলাকার পিয়াজ্জা ওর্মেয়ায় নিহত তিনজনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর তাদের লাশ বাংলাদেশে পাঠানো হয়।
নিহত বাবুলের চাচাতো ভাই বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইউনুছ সুমন বলেন, ইতালিতে থাকা স্বজনদের মাধ্যমে তারা হত্যাকাণ্ডের খবর জানতে পারেন। বাবুল দেশে এলে সবার সঙ্গে আন্তরিকভাবে মিশতেন এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিতেন। এমন নির্মম ঘটনায় তারা বাকরুদ্ধ। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শাহাদাতকে এখনো আইনের আওতায় না আনায় বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে হত্যাকাণ্ডের কারণ উদ্ঘাটনে ইতালিয়ান পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ২ জুলাই চরকাঁকড়া ইউনিয়নে তাদের বাড়ির সামনে ‘লাল বাহিনী’ নামের একটি কথিত ডাকাত দলের নামে একটি উড়ো চিঠি পাওয়া যায়। চিঠিতে পরিবারের কাছে টাকা ও স্বর্ণালংকার দাবি এবং দাবি পূরণ না করলে ছেলে-নাতিকে হত্যাসহ নারী সদস্যদের ওপর নির্যাতনের হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করেন স্বজনেরা। পরে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা জানিয়ে নিহতের বাবা সিরাজুল ইসলাম কোম্পানীগঞ্জ থানায় ও স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন বলে জানা গেছে।
নিহত বাবুলের বাবা সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমার ছেলে দেশে ছুটিতে এসে কবরস্থানে মাটি ফেলেছে। সেখানেই তাকে স্ত্রী-সন্তানসহ দাফন দেওয়া হবে। আমার বুকটা ফেটে যাচ্ছে। আমি বিচার চাই।


এ জাতীয় আরো খবর