সাংবাদিকতা ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘মাদার তেরেসা শান্তি পদক-২০২৬’ পেয়েছেন সিনিয়র সাংবাদিক ও সমাজসেবক এস এম আজাদ হোসেন। গতকাল শনিবার রাজধানীর একটি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তাঁর হাতে সম্মাননা পদক, স্মারক ও সনদ তুলে দেওয়া হয়।
মাদার তেরেসার মানবতাবাদী দর্শন, অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য কাজ করার আদর্শকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তি, সাংবাদিক, সমাজকর্মী ও মানবিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
‘মানবতার কল্যাণে মহীয়সী নারী মাদার তেরেসা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ‘মাদার তেরেসা শান্তি পদক-২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানের আয়োজন করে 'মাদার তেরেসা রিসার্চ কাউন্সিল'। অনুষ্ঠানে মানবতার জন্য মাদার তেরেসার অবদান, বর্তমান সমাজে মানবিক মূল্যবোধের প্রয়োজনীয়তা এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর সামাজিক দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা করা হয়।
সম্মাননা গ্রহণের পর অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে এস এম আজাদ হোসেন বলেন,‘একটি পদক কখনো একজন মানুষের কাজের চূড়ান্ত স্বীকৃতি হতে পারে না। বরং এটি তার দায়িত্বকে আরও বাড়িয়ে দেয়। মাদার তেরেসার নামে যে সম্মাননা আজ আমি পেয়েছি,সেটিকে আমি ব্যক্তিগত অর্জন হিসেবে দেখছি না; মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করার একটি অঙ্গীকার হিসেবে দেখছি।’
তিনি বলেন,‘মাদার তেরেসার সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-মানুষের পরিচয় তার ধর্ম,অর্থ,সামাজিক অবস্থান কিংবা ক্ষমতায় নয়; মানুষের পরিচয় তার মানবিকতায়। একজন অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলা,মানুষের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা এবং সমাজের দুর্বল মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে ওঠাই প্রকৃত অর্থে মানবসেবা।’
সাংবাদিকতা ও সমাজসেবার সঙ্গে নিজের দীর্ঘ পথচলার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘সাংবাদিকতার শক্তি শুধু সংবাদ প্রকাশে নয়,মানুষের কথা বলার মধ্যেও। যে মানুষটি নিজের অধিকার নিয়ে কথা বলতে পারে না, যে পরিবারটি অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস পায় না,যে অসহায় মানুষটি সমাজের মূল স্রোত থেকে দূরে-সাংবাদিকের দায়িত্ব তাদের কথাগুলো সামনে নিয়ে আসা। আর সমাজসেবার দায়িত্ব হলো সেই কথাকে বাস্তব সহায়তায় রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা।’
এস এম আজাদ হোসেন আরও বলেন,‘আজকের পৃথিবীতে প্রযুক্তি এগিয়েছে,অর্থনীতি এগিয়েছে, মানুষের জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এসেছে; কিন্তু মানুষের প্রতি মানুষের দায়িত্ববোধ যদি কমে যায়,তাহলে সেই উন্নয়ন পূর্ণতা পায় না। তাই আমাদের প্রত্যেকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের জন্য কিছু করার মানসিকতা তৈরি করতে হবে।’
তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন,‘শুধু নিজের ভবিষ্যৎ নয়,সমাজের ভবিষ্যৎ নিয়েও ভাবতে হবে। একজন অসহায় শিশুর পাশে দাঁড়ানো,একজন নির্যাতিত মানুষের কথা বলা,একজন ভোক্তার অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখা কিংবা একজন বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো-ছোট মনে হলেও এসব কাজই একদিন বড় সামাজিক পরিবর্তনের ভিত্তি তৈরি করে।’
সম্মাননাটি তাঁর আগামী দিনের কাজের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে উল্লেখ করে তিনি বলেন,‘মাদার তেরেসার নামে পাওয়া এই পদক আমার কাছে গৌরবের পাশাপাশি এক ধরনের নৈতিক দায়বদ্ধতা। যতদিন মানুষের জন্য কাজ করার সামর্থ্য থাকবে,ততদিন মানুষের অধিকার,মর্যাদা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে নিজের অবস্থান থেকে কাজ করে যেতে চাই। পদকটি আমার ঘরে থাকবে,কিন্তু এর প্রকৃত মূল্য থাকবে তখনই, যখন এটি আমাকে আরও বেশি মানুষের পাশে দাঁড়াতে অনুপ্রাণিত করবে।’
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, মাদার তেরেসার জীবন মানুষের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। তাঁর আদর্শকে ধারণ করে সমাজের অসহায়, সুবিধাবঞ্চিত ও অধিকারবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোই হবে তাঁর প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা।
সম্মাননা গ্রহণের মুহূর্তে এস এম আজাদ হোসেনের হাতে পদক তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁকে উত্তরীয় পরিয়ে দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন মুহূর্তের ছবি ও সম্মাননাপত্রে তাঁর এই অর্জনের স্মৃতি সংরক্ষিত হয়েছে।
এস এম আজাদ হোসেন বলেন,‘সম্মাননা মানুষকে বড় করে না,মানুষের দায়িত্বকে বড় করে। তাই এই পদকের মর্যাদা রক্ষার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো-আরও বেশি মানুষের জন্য কাজ করা।’
মাদার তেরেসা | সম্মাননা | মানবসেবা