সোমবার, আগস্ট ১০, ২০২৬

মহেশখালী থেকে লন্ডন মানবাধিকার গবেষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবাল

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের,
  • ২০২৬-০৮-০৮ ১১:৩৮:৫৭

মহেশখালী(কক্সবাজার)
ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ছয় মাসের  গবেষণা  | ‘Deconstructing Israel’s Apartheid  Against  Palestinians’   শীর্ষক গবেষণায় আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি|আইন পেশার পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা!
দ্বীপ  উপজেলা  মহেশখালী থেকে  উঠে  এসে  আইন পেশা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গবেষণায় নিজের অবস্থান তৈরি করছেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির   সিনিয়র   আইনজীবী    অ্যাডভোকেট  মো. ফারুক ইকবাল। বাংলাদেশের আদালত অঙ্গনে আইন পেশায়    যুক্ত    থাকার     পাশাপাশি    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার   আইন  নিয়ে  গবেষণা এবং যুক্তরাজ্যে উচ্চশিক্ষা   গ্রহণের   মাধ্যমে  তিনি  নিজের পেশাগত পরিসরকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিস্তৃত করেছেন।
ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকার পরিস্থিতি এবং ইসরায়েলের নীতিমালা ও আচরণের বিভিন্ন দিক নিয়ে তাঁর   ছয়    মাসব্যাপী   গবেষণা  এ  যাত্রার   অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ    অধ্যায়।      “Deconstructing Israel’s Apartheid Against Palestinians”      শিরোনামে পরিচালিত  এই  গবেষণায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের  আলোকে  ফিলিস্তিনিদের  অধিকার, বৈষম্য, দখলদারিত্ব,  রাষ্ট্রীয়  নীতি  ও    মানবাধিকার-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন  প্রশ্ন   বিশ্লেষণ  করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ছয় মাসের  গবেষণায় ফিলিস্তিনের মানবাধিকার প্রশ্ন
ফিলিস্তিন-ইসরায়েল   সংঘাত   শুধু   রাজনৈতিক বা ভূ-রাজনৈতিক   সংকট নয়;    দীর্ঘদিন     ধরে   এটি আন্তর্জাতিক   মানবাধিকার  আইন  ও  আন্তর্জাতিক আইনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়।বেসামরিক   মানুষের    নিরাপত্তা,    বৈষম্য,   ভূমি ও সম্পদের   নিয়ন্ত্রণ,   চলাচলের   স্বাধীনতা,  আবাসন, নাগরিক  অধিকার  এবং   আত্মনিয়ন্ত্রণের   অধিকার এসব প্রশ্নকে  ঘিরে  আন্তর্জাতিক মহলে  দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক ও গবেষণা চলছে।এই প্রেক্ষাপটে অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবালের গবেষণার বিষয়বস্তু ছিল “Deconstructing Israel’s  Apartheid  Against Palestinians”।  ছয়  মাস ধরে পরিচালিত গবেষণায় তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের বিভিন্ন নীতি ও  কাঠামোর   আলোকে   ফিলিস্তিনিদের   পরিস্থিতি বিশ্লেষণের চেষ্টা করেন।গবেষণার বিষয়টি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ,  কারণ  ‘apartheid’ শব্দটি আন্তর্জাতিক আইন  ও   মানবাধিকার  আলোচনায়  অত্যন্ত গুরুতর একটি  আইনগত  ও  রাজনৈতিক  পরিভাষা। ফলে এ ধরনের  বিষয়ে  গবেষণার  ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক আইন, প্রাসঙ্গিক দলিল,মানবাধিকার নীতি এবংতথ্য-উপাত্তের গভীর    বিশ্লেষণ     প্রয়োজন     হয়।      আন্তর্জাতিক
মানবাধিকার     আইনের         আলোকে       বিশ্লেষণ
অ্যাডভোকেট     ফারুক     ইকবালের         গবেষণায় আন্তর্জাতিক   মানবাধিকার আইনের বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে  ফিলিস্তিনিদের  পরিস্থিতি বিশ্লেষণ  করা হয়েছে বলে  তাঁর  দেওয়া  তথ্যে  উল্লেখ  করা হয়েছে। বিশেষ করে বৈষম্য, মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় নীতি  এবং  আন্তর্জাতিক  আইনের প্রাসঙ্গিক কাঠামো গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে উঠে এসেছে।
মানবাধিকার   বিষয়ে   গবেষণার  ক্ষেত্রে  শুধু  একটি পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক আইন, দলিল, গবেষণা, ঐতিহাসিক   প্রেক্ষাপট   এবং বিভিন্ন  পক্ষের  অবস্থান  পর্যালোচনা   করে   সিদ্ধান্তে পৌঁছানো গুরুত্বপূর্ণ।এ কারণেই তাঁর গবেষণাকর্ম তাঁর আইনগত   জ্ঞান  ও  গবেষণামূলক   দক্ষতার   একটি গুরুত্বপূর্ণ   প্রকাশ   হিসেবে   বিবেচিত   হতে   পারে।
অ্যামনেস্টি     ইন্টারন্যাশনালের    হিউম্যান    রাইটস একাডেমি প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবাল লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি    ইন্টারন্যাশনালের      হিউম্যান    রাইটস একাডেমি-এর   সঙ্গে   সম্পৃক্ত  কার্যক্রমের  আওতায় গবেষণাটি  সম্পন্ন  করেন।  আরও  বলা হয়েছে, তাঁর গবেষণা   প্রতিবেদনটি     আন্তর্জাতিক    অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের  সংশ্লিষ্ট  বোর্ড  অব  এক্সিকিউটিভ কর্তৃক    অনুমোদিত    হয়েছে    এবং   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার  আইনে  তাঁর   বিস্তৃত  গবেষণা   তাঁকে বিশেষ সম্মান এনে দিয়েছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবালের পেশাগত  সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ একাডেমিক প্রস্তুতি।তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন   বিভাগের   প্রথম   ব্যাচের   শিক্ষার্থী   হিসেবে এলএলবি   (অনার্স)  ও   এলএলএম  সম্পন্ন  করেন।
আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা সম্পন্ন করার পর তিনি আইন পেশায়  যুক্ত  হন।   কক্সবাজার   জেলা    আইনজীবী সমিতিতে  দীর্ঘদিন  আইন পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তিনি  সিনিয়র   আইনজীবী   হিসেবে  পরিচিতি লাভ করেছেন।  দেশের   আদালত   অঙ্গনে  আইন পেশার অভিজ্ঞতা    অর্জনের      পাশাপাশি     আন্তর্জাতিক মানবাধিকার  আইন নিয়ে তাঁর আগ্রহ তাঁকে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যায়।
যুক্তরাজ্যে   নতুন   অধ্যায়,   বর্তমানে   অ্যাডভোকেট ফারুক  ইকবাল   যুক্তরাজ্যে  অবস্থান  করে শিক্ষা ও পেশাগত কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি নর্থ লন্ডনের কলেজ   অব   এনফিল্ডে   পাবলিক   সার্ভিস  বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।  এর আগে  তিনি  ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলসে সলিসিটর হিসেবে যোগদান করেছেন বলেও প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।বাংলাদেশের আইন পেশায় অভিজ্ঞতা   অর্জনের   পর    যুক্তরাজ্যের     আইন ও পেশাগত  কাঠামোর  সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন  মাত্রা  যোগ   করেছে।  একদিকে  বাংলাদেশের আদালতে   আইন   পেশার    অভিজ্ঞতা,    অন্যদিকে যুক্তরাজ্যে  আইন  ও  পাবলিক  সার্ভিস বিষয়ে শিক্ষা এবং আন্তর্জাতিক  মানবাধিকার  গবেষণা এই তিনটি ধারাকে সমন্বয় করে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
মহেশখালী পৌর এলাকার ঐতিহ্য সম্বলিত বুধাগাজী পরিবারের    সন্তানের      হিসেবে     গর্বের    অধ্যায় অ্যাডভোকেট  মো. ফারুক  ইকবালের  আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ অগ্রযাত্রা স্থানীয়ভাবে বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বাংলাদেশের উপকূলীয় দ্বীপাঞ্চল মহেশখালী থেকে  উঠে  এসে  আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা  এবং   যুক্তরাজ্যে   উচ্চশিক্ষা   গ্রহণ   তাঁর জীবনযাত্রার একটি উল্লেখযোগ্য দিক।মহেশখালীসহ কক্সবাজার   অঞ্চলের  আইন  শিক্ষার্থী ও তরুণদের জন্য  তাঁর  এই  পথচলা  অনুপ্রেরণার উদাহরণ হতে পারে।  স্থানীয়  পর্যায় থেকে জাতীয় এবং পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক   পরিসরে   নিজের  যোগ্যতা  প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে শিক্ষা, অধ্যবসায় ও পেশাগত  দক্ষতার গুরুত্ব তাঁর  ক্যারিয়ারে  প্রতিফলিত   হয়েছে।  মানবাধিকার গবেষণায়    আইনজীবীদের     অংশগ্রহণের    গুরুত্ব
মানবাধিকার   রক্ষায়   আইনজীবীদের   ভূমিকা  শুধু আদালতকেন্দ্রিক    নয়।  আন্তর্জাতিক   মানবাধিকার আইন, যুদ্ধ ও সংঘাত,  উদ্বাস্তু  সমস্যা,  রাষ্ট্রীয় বৈষম্য, নাগরিক অধিকার এবং আন্তর্জাতিক অপরাধের মতো বিষয়ে আইনজীবীদের গবেষণা  ও বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা   রাখতে   পারে।   বিশেষ  করে   আন্তর্জাতিক মানবাধিকার    আইন     নিয়ে      গবেষণার   মাধ্যমে আইনজীবীরা   জাতীয়    সীমানার    বাইরে    বৈশ্বিক মানবাধিকার আলোচনায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পান। অ্যাডভোকেট ফারুক ইকবালের গবেষণার ক্ষেত্রটিও সেই বৃহত্তর পরিসরের সঙ্গে সম্পৃক্ত।
গবেষণার বিষয়  কেন  গুরুত্বপূর্ণ, ফিলিস্তিন প্রশ্ন বহু দশক  ধরে  আন্তর্জাতিক  রাজনীতি ও মানবাধিকার আলোচনার     কেন্দ্রবিন্দুতে     রয়েছে।   জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক   মানবাধিকার   সংগঠন,  আন্তর্জাতিক আইনবিদ ও গবেষকরা বিভিন্ন  সময় ফিলিস্তিনিদের অধিকার,    বেসামরিক    জনগণের    সুরক্ষা  এবং আন্তর্জাতিক   মানবাধিকার  আইনের  প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা করেছেন।এই প্রেক্ষাপটে ‘Deconstructing Israel’s Apartheid Against Palestinians’শীর্ষক গবেষণাটি    একটি       সংবেদনশীল   ও    বিতর্কিত আন্তর্জাতিক    ইস্যুকে    আইন   ও   মানবাধিকারের দৃষ্টিকোণ  থেকে  বিশ্লেষণের  প্রয়াস হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। গবেষণার  ফলাফল  ও পদ্ধতি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে  মূল  গবেষণাপত্র,  ব্যবহৃত তথ্যসূত্র, গবেষণার কাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ। 
ব্যক্তিগত সাফল্যের বাইরে একটি বার্তা অ্যাডভোকেট ফারুক  ইকবালের  পথচলার  সবচেয়ে  উল্লেখযোগ্য দিক   হলো   তিনি  আইন  পেশাকে  কেবল জীবিকা হিসেবে  দেখেননি;   বরং  আইনকে   মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক  ন্যায়বিচারের বৃহত্তর  আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করেছেন। মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, সেখান  থেকে  কক্সবাজারের আদালত অঙ্গন  এবং   পরবর্তীতে   যুক্তরাজ্যের   উচ্চশিক্ষা ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গবেষণা তাঁর এই দীর্ঘ যাত্রা একটি ধারাবাহিক  একাডেমিক ও পেশাগত বিকাশের চিত্র তুলে ধরে। তাঁর  ভবিষ্যৎ  পরিকল্পনা ও গবেষণার পরিধি আরও  বিস্তৃত  হলে  আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন    নিয়ে    বাংলাদেশের    তরুণ   আইনজীবী ও গবেষকদের  অংশগ্রহণেও  নতুন  সম্ভাবনা  তৈরি হতে পারে।
শুভানুধ্যায়ীদের  কাছে  দোয়া   প্রার্থনা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা, উচ্চশিক্ষা  এবং আইন পেশায়  নিজের  কার্যক্রম  অব্যাহত  রাখতে সকলের সহযোগিতা  ও  দোয়া  কামনা  করেছেন  মহেশখালী  পৌর এলাকার ঐতিহ্য সম্বলিত বুধাগাজী পরিবারের সন্তান  অ্যাডভোকেট  মো. ফারুক ইকবাল।তাঁর এই অগ্রযাত্রা মহেশখালী ও কক্সবাজারের মানুষের জন্য যেমন গর্বের, তেমনি  আইন  ও  মানবাধিকার বিষয়ে আগ্রহী   তরুণদের  জন্যও  হতে   পারে অনুপ্রেরণার একটি গল্প।


এ জাতীয় আরো খবর