বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-৩০ ১০:২১:৪১

অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগে পুলিশের দুই কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের শৃঙ্খলা-১ শাখা থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করা হয়। আদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর স্বাক্ষর রয়েছে এবং তা অবিলম্বে কার্যকর হবে।
বরখাস্ত হওয়া দুই কর্মকর্তা হলেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ট্রাফিক-দক্ষিণ বিভাগের সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার এস এম মেহেদী হাসান এবং গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, এস এম মেহেদী হাসান ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা এবং ই-মেইলে একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তিনি কর্মস্থলে যোগ দেননি। এ অনুপস্থিতিকে সরকারি দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা ও বিভাগীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি জবাব দেননি, এমনকি সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে ২০২৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর ২০২৬ সালের ৪ জুন তাকে দ্বিতীয়বার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরবর্তীতে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এ বিষয়ে সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শ নেওয়া হলে কমিশনও ওই দণ্ড দেওয়ার পক্ষে মত দেয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৬ আগস্ট থেকে এস এম মেহেদী হাসানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরী গাজীপুর ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশ-২-এ কর্মরত থাকা অবস্থায় ২০২৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি অসুস্থতার কারণে চিকিৎসকের কাছ থেকে দুই মাসের বিশ্রামের পরামর্শ পান। বিশ্রাম শেষে ২০২৫ সালের ১১ এপ্রিল কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও তিনি আর যোগ দেননি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সাড়া পাওয়া যায়নি।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে কর্মস্থলে ফেরার জন্য স্থায়ী ও অস্থায়ী ঠিকানায় একাধিকবার নোটিশ পাঠানো হলেও তার অবস্থান নিশ্চিত করা যায়নি।
এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব নির্ধারিত সময়ে না দেওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।
পরে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়ার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সরকারি কর্ম কমিশনের পরামর্শের পর ওই সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ ও পলায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে মো. রহমত উল্লাহ চৌধুরীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তা, বরখাস্ত, পলায়ন


এ জাতীয় আরো খবর