বুধবার, সেপ্টেম্বর ৩০, ২০২৬

ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের চূড়ান্ত সেনা প্রত্যাহার

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-৩০ ১০:০৮:১৮
ছবি: সংগৃহীত।

এক দশকেরও বেশি সময় পর ইরাক থেকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সামরিক মিশন শেষ হয়েছে। বুধবার দেশটির সর্বশেষ ঘাঁটি থেকেও মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকে জোটের দীর্ঘ সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটল। ২০২৪ সালে বাগদাদ ও ওয়াশিংটনের মধ্যে হওয়া সমঝোতার ভিত্তিতেই এ প্রত্যাহার সম্পন্ন হয়েছে।
২০১৪ সালে ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ইরাক ও সিরিয়ায় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের সেনা মোতায়েন করা হয়। সে সময় জঙ্গিগোষ্ঠীটি দুই দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা দখল করে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতা চালায়। ২০১৭ সালে ইরাকে এবং ২০১৯ সালে সিরিয়ায় ইসলামিক স্টেটের নিয়ন্ত্রণাধীন ভূখণ্ডের পতন হলেও গোষ্ঠীটির অবশিষ্ট সদস্যদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে ইরাকে জোটের সেনারা অবস্থান করছিল।
২০২৪ সালে ইরাক ও যুক্তরাষ্ট্র জোটের মিশন ধাপে ধাপে শেষ করার বিষয়ে একমত হয়। এরপর বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি থেকে জোটের সেনা প্রত্যাহার করা হয়। শেষপর্যায়ে তাদের উপস্থিতি সীমিত ছিল স্বায়ত্তশাসিত কুর্দিস্তান অঞ্চলে।
ইরাক সরকার মনে করছে, বিদেশি জোটের সেনা প্রত্যাহারের পর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব আরও সুস্পষ্ট হবে। প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদি ১ অক্টোবরকে সার্বভৌমত্ব দিবস হিসেবে পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। রাষ্ট্রের নির্বাহী, আইনসভা ও বিচার বিভাগের প্রধানরা এক যৌথ বিবৃতিতে দিনটিকে ইরাকের সার্বভৌমত্বের পথচলা সম্পন্ন হওয়ার প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে জোটের সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে সঙ্গে ইরাকের সামনে নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রভাব এবং ইসলামিক স্টেটের অবশিষ্ট সদস্যদের তৎপরতা নিয়ে দেশটির নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন বাহিনী এতদিন ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীকে গোয়েন্দা তথ্য, আকাশ নজরদারি ও অন্যান্য সহায়তা দিয়ে আসছিল।
ইরাকের সরকারের অন্যতম বড় লক্ষ্য এখন রাষ্ট্রের হাতে অস্ত্রের ওপর একক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা। প্রধানমন্ত্রী জায়েদি বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে অস্ত্র সরকারের নিয়ন্ত্রণে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে কয়েকটি শক্তিশালী গোষ্ঠী অস্ত্র ত্যাগে অস্বীকৃতি জানিয়ে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বন্ধের দাবিও তুলেছে।
কাতায়েব হিজবুল্লাহসহ কয়েকটি শক্তিশালী সশস্ত্র গোষ্ঠী মার্কিন সেনা প্রত্যাহারকে স্বাগত জানিয়েছে। তবে একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জায়েদির সরকারের বিরুদ্ধেও হুমকিমূলক বক্তব্য দিয়েছে। ফলে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের পর রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা অস্ত্রের বিষয়টি কীভাবে সমাধান করা হবে, তা ইরাকের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইসলামিক স্টেটের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট এবং ইরানের সমর্থনপুষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একই পক্ষের হয়ে লড়াই করেছিল। কিন্তু ইসলামিক স্টেটের পরাজয়ের পর ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি বাগদাদ সরকার ও ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে বিরোধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে ওঠে। কয়েক বছর ধরে এসব গোষ্ঠী মার্কিন সেনাদের লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের সময় কুর্দিস্তান অঞ্চলে অবস্থানরত জোটের সেনারাও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। এখন তাদের প্রত্যাহারের পর এরবিলসহ কুর্দিস্তান অঞ্চলের বাসিন্দাদের একাংশ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের আশঙ্কা, জোটের আকাশ প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে ড্রোন হামলা মোকাবিলা করা কঠিন হতে পারে।
এদিকে চলতি বছরের শুরুতেই মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোট সিরিয়া থেকেও তাদের সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে।

ইরাক, মার্কিন সেনা, সার্বভৌমত্ব


এ জাতীয় আরো খবর