জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং নাগরিকদের জন্য ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে ঢাকা ওয়াসা বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ ((সংশোধনী ২০২৬)) এর প্রাসঙ্গিক বিধান যথাযথভাবে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপের পাশাপাশি ঢাকা ওয়াসার সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণের দাবির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বয়ে ধারাবাহিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকা ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (মানবসম্পদ ও প্রশাসন) এ কে এম ফজলুল হক।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাজধানীর ওয়াসা ভবনে ঢাকা ওয়াসা এবং ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন অব দ্য রুরাল পূউর-ডর্প এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ঢাকা ওয়াসার সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ডর্পের তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের সমন্বয়কারী জেবা আফরোজা। তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করে এবং কর্মক্ষেত্র, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। গ্লোবাল অ্যাডাল্ট টোব্যাকো সার্ভে (GATS) ২০১৭ অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার করেন। একই জরিপ অনুযায়ী প্রায় ৩ কোটি ৮৪ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক কর্মক্ষেত্রসহ পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হন। শতাংশে হিসেব করলে, কর্মক্ষেত্রের অভ্যন্তরীণ এলাকায় ৪২ দশমিক ৭ শতাংশ, পাবলিক পরিবহনে ৪৪ শতাংশ এবং রেস্তোরাঁয় প্রায় ৪৯ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক পরোক্ষ ধূমপানের সংস্পর্শে এসেছেন। এমনকি ২০২৩ সালে পরোক্ষ ধূমপানের কারণে বিশ্বে প্রায় ১৭ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে দ্য ল্যানসেট-এর এক গবেষণায় উঠে এসেছে। তাই প্রত্যক্ষ ধূমপানের মতো পরোক্ষ ধূমপানও স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং এর প্রভাব থেকে কর্মক্ষেত্র ও জনসমাগমস্থলকে সুরক্ষিত রাখা জরুরি।
জেবা আফরোজা আরও বলেন, তামাক ব্যবহারজনিত রোগ ও অকালমৃত্যু দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে প্রায় ২ লক্ষ মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটে এবং তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্যসেবা ব্যয় ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ সামগ্রিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। তামাক নিয়ন্ত্রণকে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনা করে ঢাকা ওয়াসার এ উদ্যোগ দেশের অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার সচিব মুহাম্মদ আবদুল হাই মিল্টন। তিনি বলেন, ২০২৬ সালের বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর বাণীতে উল্লেখ করা হয়েছে, “তামাক ও নিকোটিনের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে শিশু-কিশোর ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুরক্ষিত রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও বলেন, পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার নিষিদ্ধকরণ সরকারের এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নেরই অংশ।
আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত এবং স্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ গড়ে তুলতে জনসাধারণকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবহিত করা, তামাক নিয়ন্ত্রণে ঢাকা ওয়াসার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে আইন ও বিধিবিধানের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
এ সময় ডর্পের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঢাকা ওয়াসার সকল কার্যালয়ে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কীকরণ সাইনবোর্ড এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ স্থাপনে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। একই সঙ্গে কর্মীদের জন্য একটি স্বাস্থ্যসম্মত, নিরাপদ ও তামাকমুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
সভায় ঢাকা ওয়াসার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং ডর্পের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।