শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২৬

'এক মুঠো মাটির বিস্ময়'

  • এস এম আজাদ হোসেন
  • ২০২৬-০৮-০৬ ২১:৫৫:১৩
প্রতীকী ছবি

বন্ধুরা,আজ শুরু হচ্ছে আমাদের নতুন পর্ব-নতুন অধ্যায়।তোমাদের চোখ দিয়ে গল্প দেখা হবে।ঘটনাগুলো হবে বাস্তবসম্মত,তবে বিস্ময়ে ভরা আর প্রতিটি পর্বে থাকবে জ্ঞান,আবেগ, রোমাঞ্চ ও পরিবেশের বার্তা।

রাহি ও অরণের সবুজ পৃথিবী
নতুন অধ্যায়: 'মাটির নিচের গোপন শহর'
পর্ব–৫১: 

সকালের রোদ তখনও খুব কোমল।
রাহি উঠোনে একটি কদমগাছের চারায় পানি দিচ্ছিল।
হঠাৎ তার চোখে পড়ল, চারার গোড়ার মাটি যেন আস্তে আস্তে নড়ছে।
সে নিচু হয়ে ভালো করে তাকাতেই দেখল,ছোট ছোট পিঁপড়েরা সারি বেঁধে কোথাও ছুটে যাচ্ছে।

ঠিক তখনই অরণ আর শিসু এসে হাজির।
শিসু অবাক হয়ে বলল,
-'ওরা সবাই একদিকে যাচ্ছে কেন?'
অরণ মাটিতে হাঁটু গেড়ে বসে দেখল,পিঁপড়েদের সারি একটি ছোট গর্তের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।

রাহি ফিসফিস করে বলল,
-'চলো, দেখি ওদের বাড়িটা কেমন।'

ঠিক সেই মুহূর্তে বটগাছের পাতা মৃদু দুলে উঠল।
বটদাদুর কণ্ঠ ভেসে এল,
-'সাবধানে দেখো। প্রকৃতিকে জানতে হলে কখনো তাকে বিরক্ত করা যাবে না।'

তিন বন্ধু তাই গর্তে হাত দিল না।
শুধু একটু দূরে বসে নীরবে দেখতে লাগল।

একটি পিঁপড়ে শুকনো ধানের দানা টেনে নিয়ে যাচ্ছে।
আরেকটি ছোট্ট পাতার টুকরো বহন করছে।
কেউ আবার খালি মুখে ফিরছে।

কিন্তু একটিও থেমে নেই।

শিসু বিস্ময়ে বলল,
-'ওরা কি কারও কথা না শুনেও এত সুন্দরভাবে কাজ করতে পারে?'

ঠিক তখন নাসির স্যার সেখানে এসে দাঁড়ালেন।
তিনি হাসতে হাসতে বললেন,
-'পিঁপড়েরা দলবদ্ধভাবে কাজ করতে খুব দক্ষ। প্রত্যেকের কাজ আলাদা হলেও তাদের লক্ষ্য এক।'

রাহি নোটবই খুলে লিখল,
'প্রথম সূত্র-ছোট প্রাণীরাও পরিকল্পনা করে কাজ করে।'
এমন সময় হালকা বাতাসে একটি শুকনো পাতা গড়িয়ে এসে পিঁপড়েদের পথের ওপর পড়ল।
রাহি ভাবল,এবার হয়তো ওরা থেমে যাবে।

কিন্তু না।
কিছু পিঁপড়ে পাতার ওপর উঠে গেল।
কিছু নিচ দিয়ে রাস্তা খুঁজল।
আর কয়েকটি পাশ দিয়ে নতুন পথ বানিয়ে নিল।

অরণ মুগ্ধ হয়ে বলল,
-'দেখো! বাধা পেলেও ওরা থেমে থাকল না।'

বটদাদুর কণ্ঠে প্রশান্তির সুর।
-'প্রকৃতি প্রতিদিন শেখায়-সমস্যা এলে অভিযোগ নয়,সমাধান খুঁজতে হয়।'

ঠিক তখন শিসু মাটির পাশে একটি কেঁচোকে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে দেখল।
সে চমকে উঠল।
-'এও কি এই শহরের বাসিন্দা?'

বটদাদু হেসে বললেন,
-'তুমি আজ শুধু দরজাটা দেখেছ। শহরের ভেতরে আরও কত বাসিন্দা আছে,তা এখনো জানো না।'

তিন বন্ধু একে অপরের দিকে তাকাল।
তাদের চোখে নতুন অভিযানের আলো।
মাটির নিচে কি সত্যিই একটি ব্যস্ত পৃথিবী লুকিয়ে আছে?
সেখানে কারা থাকে?
কীভাবে তারা বেঁচে থাকে?

প্রশ্নগুলো তাদের মনে ঘুরপাক খেতে লাগল।

ফেরার আগে রাহি ডায়েরিতে লিখল,
'এক মুঠো মাটি কখনো শুধু মাটি নয়। সেখানে হাজারো প্রাণের অদেখা একটি শহর লুকিয়ে থাকে।'

বটদাদুর শেষ কথাটি বাতাসে ধীরে ধীরে ভেসে রইল,
-'যে শিশু মাটিকে সম্মান করতে শেখে,সে একদিন পৃথিবীকেও ভালোবাসতে শেখে।'

আজকের সবুজ প্রতিজ্ঞাঃ
আমি অকারণে পিঁপড়ের বাসা,কেঁচোর গর্ত বা ছোট প্রাণীদের আবাস নষ্ট করব না। প্রকৃতির প্রতিটি প্রাণের বাঁচার অধিকারকে সম্মান করব।

সবুজ তথ্যঃ
এক মুঠো উর্বর মাটির ভেতরে অসংখ্য ক্ষুদ্র জীব,কেঁচো,পিঁপড়া,ছত্রাক এবং অণুজীব বাস করে। এরা মাটিকে উর্বর রাখতে,পচা পাতা ভেঙে পুষ্টিতে পরিণত করতে এবং নতুন গাছ জন্মাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

বন্ধুরা,'মাটির নিচের গোপন শহর' অধ্যায়টি তোমাদের এমন এক পৃথিবীর সঙ্গে পরিচয় করাবে,যা তারা প্রতিদিন পায়ের নিচে দেখেও খেয়াল করে না। 


এ জাতীয় আরো খবর