বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

বরগুনায় ষড়যন্ত্রে গুঁড়িয়ে দেওয়া সেই বায়তুল রহিম মসজিদ পুনর্গঠনের পর জুম্মার নামাজ অনুষ্ঠিত

  • এম আর অভি,
  • ২০২৬-১০-০৩ ১৯:৫৩:০২

বরগুনা প্রতিনিধি 
বরগুনা সদর উপজেলার খেজুরতলা গ্রামেরআলহাজ্ব আব্দুর রহিম হাওলাদার (মাষ্টার ) বাড়ির সামনের বায়তুল রহিম মসজিদটি তৎকালীন সরকারের আমলে স্থানীয় কতিপয় অসাধু প্রশাসন বিধি বহির্ভূতভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয় এবং তৎসংলগ্ন গাছ-পালা বৃক্ষ নিধন করে অসৎ উদ্দেশ্যে পুকুর বালু ভরাট করে জমি দখলে নেয়ার চেষ্টা করে।। দীর্ঘ সময় পর গৌরিচন্না ইউনিয়নের খাজুরতলা গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব আব্দুর রহিম হাওলাদার মাষ্টার বাড়ির সেই ঐতিহ্যবাহী ‘বায়তুল রহিম মসজিদটি পুনর্গঠন করেছেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মুসল্লিরা শুক্রবার পুনর্নির্মিত এই মসজিদে আনুষ্ঠানিকভাবে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা ও ধর্মীয় গাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে প্রথম জুমার নামাজ অনুষ্ঠিত হয় মসজিদটিতে । এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন, জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি এ জেড এম সালেহ ফারুক , ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বরগুনা জেলা সেক্রেটারী 
মাও আব্দুস শাকুর সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও মুসল্লিরা ।
প্রাপ্ত তথ্য ও ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর প্রেরিত প্রতিষ্ঠাতা পরিবার ও জমির পত্তনগ্রহীতা মো: আবদুর রাজ্জাক-এর আবেদনপত্রের নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানা যায়, বরগুনা সদর থানার খেজুরতলা গ্রামের মরহুম আলহাজ্ব আবদুর রহিম হাওলাদার (মাস্টার)-এর পরিবার ১৯৮৬ সাল থেকে ওই জমিতে বাসস্থানের পাশাপাশি ফলজ ও বনজ বৃক্ষরোপণ, সামাজিক বনায়ন এবং মুসল্লিদের নামাজের সুবিধার্থে টিনশেড ও পাকা মসজিদ স্থাপন করেন । মসজিদে দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে আসছিলেন এবং অদূরেই মুসল্লিদের ওজু ও গোসলের জন্য একটি ঘাট বাঁধানো পুকুরও তৈরি করা হয়েছিল।
ইতিপূর্বে জমির স্বত্ব ও বন্দোবস্ত সংক্রান্ত আবেদনের প্রেক্ষিতে বরগুনার তৎকালীন জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) একাধিকবার সরেজমিনে পরিমাপ ও সেলামী নির্ধারণ করে ইতিবাচক প্রতিবেদন জমা দেন এবং বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে একাধিকবার সুপারিশসহ স্পষ্ট মতামত দেওয়া হয়েছিল যে, উক্ত জমিতে সরকারের কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রয়োজন নেই এবং আবেদনকারীকে তা স্থায়ী বন্দোবস্ত দেওয়া যেতে পারে এমন প্রতিবেদনের পরেও অসাধু কর্মকর্তাদের স্বেচ্ছাচারিতায় এবং পরবর্তীতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল ও প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্যে ‘নৌ-টার্মিনাল স্থাপন’ বা ‘ড্রেজিং’-এর অজুহাত দেখিয়ে ঐতিহ্যবাহী এই আলহাজ্ব আব্দুর রহিম হাওলাদার মাষ্টার বাড়ির মসজিদ ও সংলগ্ন জমি দখলের চক্রান্ত চালানো হয় । নথির তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত নৌ-টার্মিনালের নির্ধারিত অবস্থান ছিল জমির দক্ষিণ অংশে এবং ড্রেজিং-এর জন্য জায়গা চিহ্নিত ছিল উত্তর অংশে, যার সাথে মসজিদ ও আবাসন অংশের কোনো সাংঘর্ষিক অবস্থান ছিল না । তা সত্ত্বেও তৎকালীন প্রসাশনের অসাধু কর্মকর্তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মসজিদটি ভেঙে চুরমার করে দেওয়া হয় এবং সেখানে বালু ভরাট করে মুসল্লিদের ইবাদতের পথ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল । মুসল্লিদের ওযু গোসল ও এলাকার পানি ব্যবহারের একমাত্র পুকুরটি ভরাট করা হয় । এলাকায় নিরাপদ পানির সমস্যা রয়েছে, তাছাড়া নেই কোন দিঘি বা বড় পুকুর, তাই স্থানীয় জনগণ এই পুকুরের পানি ব্যবহার করত । পুকুর ভরাট করে ফেলায় এলাকার জনগণ পানি থেকে বঞ্চিত ।
সম্প্রতি রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর স্থানীয় মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে হারানো মসজিদটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেন। মুসল্লিদের নিজস্ব অর্থায়ন ও শ্রমে কাঠ ও টিন দিয়ে প্রাথমিকভাবে মরহুম আলহাজ্ব আব্দুর রহিম হাওলাদার মাষ্টার বাড়ি ঐতিহ্যবাহী বায়তুল রহিম মসজিদটি পুনরায় দাঁড় করানো হয়েছে ।পুনর্নির্মিত মসজিদে অনুষ্ঠিত প্রথম জুমার নামাজে স্থানীয় বহু মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। নামাজ শেষে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে দেশের শান্তি-সমৃদ্ধি এবং বায়তুল রহিম জামে মসজিদের স্থায়ী পাকা ভবন নির্মাণের তাওফিক কামনা করা হয়। একই সাথে এলাকাবাসী বিগত সরকারের আমলের অসাধু কর্মকর্তাদের অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিল করে মসজিদের জমি স্থায়ীভাবে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান বায়তুল রহিম মসজিদ , মাদ্রাসা ও গনকবরের নামে বরাদ্দ দেওয়ার জন্য বর্তমান প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।

 


এ জাতীয় আরো খবর