বুধবার, অক্টোবর ৭, ২০২৬

শেখ হাসিনাকে ফেরানোর বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে: দীনেশ ত্রিবেদী

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-১০-০৩ ১৫:৫৫:০০
ফাইল ছবি

শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে ভারতের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। আদালতও প্রক্রিয়াটির সঙ্গে যুক্ত থাকায় এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। একই প্রক্রিয়ার কথা বলেছেন ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রসঙ্গেও।
শনিবার ঢাকায় অনুষ্ঠিত বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬-এর একটি অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান একাধিকবার স্পষ্ট করেছেন। বিষয়টি আইনগত ও সুসংগঠিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে এবং আদালত এতে সম্পৃক্ত থাকায় এর পরিণতির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া যায় না।
শেখ হাসিনা কীভাবে ভারতে গিয়েছিলেন, সে প্রসঙ্গে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, তাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে যায়নি। বাংলাদেশের তৎকালীন পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন। সে সময় একটি সামরিক বিমান ভারতে পৌঁছেছিল এবং পরিস্থিতির জন্য ভারতও আগে থেকে প্রস্তুত ছিল না বলে জানান তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তাকে ভারতে অবতরণের অনুমতি না দিলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠতে পারত। প্রতিবেশী দেশ হিসেবে ওই সময়কার বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ভারত তাকে গ্রহণ করেছিল বলে জানান তিনি।
বাংলাদেশের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ। নিজেদের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের বিষয়। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে ভারতের নিরাপত্তায় হস্তক্ষেপের কোনো প্রশ্ন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কোনো তৃতীয় দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের ওপর নির্ভর করে না উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশই নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার অধিকার রাখে। একজন ভালো প্রতিবেশী হিসেবে পরস্পরের মর্যাদা ও সম্মানের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকাই গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে শুধু লেনদেনের ভিত্তিতে দেখলে এর প্রকৃত গভীরতা বোঝা যাবে না। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক বন্ধন রয়েছে। নজরুলগীতি ও রবীন্দ্রসংগীতের মতো সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচিত দুই দেশের জাতীয় সংগীত এই সম্পর্কের বিশেষ গভীরতার দৃষ্টান্ত বলে উল্লেখ করেন তিনি।
দুই দেশের সম্পর্কে মতপার্থক্য থাকতেই পারে উল্লেখ করে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, কোনো সম্পর্কেই সব সময় সব বিষয়ে একমত হওয়া সম্ভব নয়। এসব সমস্যা সমাধানের পথ হলো সংলাপ, আলোচনা, পরামর্শ ও পারস্পরিক যোগাযোগ। আর এর ভিত্তি হলো আস্থা।
দূরত্ব তৈরি করে কোনো সম্পর্কের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক একটি চলমান প্রক্রিয়া। দুই দেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আন্তরিকতা ও ভালোবাসা রয়েছে এবং এই সম্পর্কের মৌলিক ভিত্তি অটুট রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

শেখ হাসিনা, ভারত-বাংলাদেশ, প্রত্যর্পণ


এ জাতীয় আরো খবর