শনিবার, অক্টোবর ৩, ২০২৬

জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার দাবিতে জুলাই গণঐক্যের মানববন্ধন

  • মো: মফিদুল ইসলাম সরকার :
  • ২০২৬-১০-০৩ ২০:১৪:৫৮

জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার দাবিতে ‘জুলাই গণঐক্য’-এর উদ্যোগে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার বিকেল ৫টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা জুলাইয়ের আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দায়ীদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। পাশাপাশি নাশকতা, সহিংসতা ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ ও সজাগ থাকার আহ্বান জানান তারা।
বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আত্মত্যাগ ও গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে দেশে শান্তি, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। কোনো হত্যাকাণ্ড বা সহিংসতার ঘটনা যেন রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে চাপা না পড়ে, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও দাবি জানান তারা।
আরিফুল হক শাপলা বলেন, “জুলাইয়ের গণহত্যার বিচার কোনোভাবেই বিলম্বিত করা যাবে না। প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে।” তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হলের নাম পরিবর্তন নিয়েও আপত্তি জানান এবং আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করার আহ্বান জানান।
মাহবুব হাসান বলেন, “জুলাইয়ের চেতনায় জাতীয় ঐক্য আরও সুদৃঢ় করতে হবে। জুলাইয়ের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।”
জাতীয়তাবাদী সাস্টিয়ান সোসাইটির সভাপতি সৈয়দ সুলতান বলেন, “দেশ ও জনগণের স্বার্থে সব ধরনের ষড়যন্ত্র ও অপতৎপরতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় আমাদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।”
মোঃ কামাল বলেন, “জুলাইয়ের আত্মত্যাগের প্রকৃত মর্যাদা নিশ্চিত করতে হলে প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার করতে হবে। কোনো অপরাধী রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে দায় এড়াতে পারবে না।”
আইনজীবী এস মারুফ আহমেদ বলেন, “জুলাইয়ের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে যে পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে, তা বাস্তবায়নে ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা অপরিহার্য। রাষ্ট্র ও সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।”
মীর সাব্বির বলেন, “জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ কখনো বিস্মৃত হওয়ার নয়। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে জনগণের ঐক্য আরও শক্তিশালী করতে হবে।”
তৌহিদুল ইসলাম তুহিন বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলনের মূল আকাঙ্ক্ষা ছিল একটি ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। সেই আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে অন্যায়, সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে সোচ্চার হতে হবে।”
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা জুলাইয়ের প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের বিচার, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকর সংস্কার এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ সুদৃঢ় করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেকোনো নাশকতা, সহিংসতা ও জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিকভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।


এ জাতীয় আরো খবর