বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১, ২০২৬

স্কুলে পৌঁছেও থামছে পথ,কন্যাশিশুর শিক্ষায় বড় বাধা বাল্যবিবাহ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৬-০৯-৩০ ২৩:০২:৩৫

আজ ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় কন্যাশিশু দিবস। দেশে কন্যাশিশুর শিক্ষায় গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও মাধ্যমিক পর্যায়ে এসে তাদের একটি বড় অংশ শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়ছে। ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের ঝরে পড়ার হারও বেশি। ফলে বিদ্যালয়ে কন্যাশিশুর অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের শিক্ষা অব্যাহত রাখার বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরো ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মাধ্যমিক পর্যায়ে ছেলেদের ঝরে পড়ার হার প্রায় ৩০ দশমিক ৬৩ শতাংশ। মেয়েদের ক্ষেত্রে এ হার ৩৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। অর্থাৎ প্রাথমিক পর্যায়ে মেয়েদের অংশগ্রহণ তুলনামূলকভাবে ভালো থাকলেও মাধ্যমিকে ওঠার পর উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিক্ষার্থী পড়াশোনা ছেড়ে দিচ্ছে।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ, বিশেষ করে উপবৃত্তির কারণে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে মেয়েদের বিদ্যালয়ে ভর্তি ও অংশগ্রহণ বেড়েছে। প্রাথমিক শিক্ষায় ছেলে ও মেয়েদের অংশগ্রহণেও প্রায় সমতা এসেছে। তবে শিক্ষার পরবর্তী ধাপে গিয়ে সেই অগ্রগতির ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
কন্যাশিশুর ঝরে পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর জরিপের তথ্য অনুযায়ী, ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় ৭১ শতাংশ মেয়ে বাল্যবিবাহের কারণে পড়াশোনা থেকে ছিটকে পড়ে। ফলে শিক্ষাজীবন বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি অল্প বয়সেই তাদের জীবনে নতুন ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কন্যাশিশুকে বিদ্যালয়ে আনা যেমন জরুরি, তেমনি তাকে শিক্ষার সঙ্গে ধরে রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য উপবৃত্তি ও অন্যান্য সহায়তার পাশাপাশি নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার, বিদ্যালয়, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
কন্যাশিশুর শিক্ষা কেবল একটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে পরিবার, সমাজ ও দেশের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন। তাই জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তির সাফল্যের পাশাপাশি তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধের বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার তাগিদ রয়েছে।

কন্যাশিশু, শিক্ষাঝরে পড়া, বাল্যবিবাহ


এ জাতীয় আরো খবর