মঙ্গলবার, জুলাই ৭, ২০২৬

কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালন সম্প্রসারণে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার,বাড়ছে নতুন উদ্যোক্তার অংশগ্রহণ

  • মো. আব্দুল আজিজ মিয়া
  • ২০২৬-০৭-০৬ ২৩:৩৩:২১

উত্তরাঞ্চলের নদী-বেষ্টিত জেলা কুড়িগ্রামে আধুনিক হাঁস পালনকে লাভজনক ও টেকসই খাতে রূপ দিতে মাঠপর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করেছে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। উন্নত জাতের হাঁস পালন, বৈজ্ঞানিক খামার ব্যবস্থাপনা, রোগ প্রতিরোধ, নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা এবং উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বিষয়ে খামারিদের উদ্বুদ্ধ করতে নিয়মিত প্রচারণা, প্রশিক্ষণ, খামার পরিদর্শন, মতবিনিময়, তথ্যপত্র বিতরণ এবং সচেতনতামূলক স্টিকার প্রদর্শনের মতো কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কুড়িগ্রামের বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল, নদ-নদী, বিল ও জলাভূমি হাঁস পালনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এই প্রাকৃতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য নিয়ে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর হাঁস পালন সম্প্রসারণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
হ্যাচারিসহ আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার, কুড়িগ্রামের সিনিয়র সহকারী পরিচালক ডাঃ মো. রুবাইয়েত রেজার তত্ত্বাবধানে পরিচালিত বিভিন্ন কর্মসূচির আওতায় খামারিদের উন্নত জাত নির্বাচন, ডিম উৎপাদন বৃদ্ধি, বাচ্চা লালন-পালন, সুষম খাদ্য প্রয়োগ, পরিচ্ছন্ন খামার ব্যবস্থাপনা, সময়মতো টিকাদান এবং রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে হাতে-কলমে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে খামারিদের বাস্তব সমস্যার কথা শুনে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা ও দিকনির্দেশনাও প্রদান করা হচ্ছে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জেলার অনেক তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষিত বেকার এবং ক্ষুদ্র খামারি বাণিজ্যিকভাবে হাঁস পালনকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে গ্রহণ করছেন। সরকারি পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা তাঁদের এ খাতে বিনিয়োগে উৎসাহিত করছে। একই সঙ্গে পুরোনো খামারিরাও আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে উৎপাদন বৃদ্ধি এবং খামারের লাভজনকতা বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
মাঠপর্যায়ের একাধিক খামারি জানান, নিয়মিত টিকাদান, উন্নত জাতের হাঁস ব্যবহার, মানসম্মত খাদ্য প্রয়োগ এবং স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করার ফলে আগের তুলনায় হাঁসের মৃত্যুহার কমেছে এবং ডিম ও মাংস উৎপাদন বেড়েছে। এতে তাঁদের আয়ও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজন খামারি বলেন, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা নিয়মিত খামারে এসে পরামর্শ দেওয়ায় রোগবালাই মোকাবিলা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও উৎপাদন বৃদ্ধির বিষয়ে তাঁদের দক্ষতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। ফলে তাঁরা এখন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে হাঁস পালনে আরও আগ্রহী হচ্ছেন।
এলাকার বাসিন্দাদের ভাষ্য, সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি ডাঃ মো. রুবাইয়েত রেজা নিয়মিত বিভিন্ন গ্রাম ও ইউনিয়নে গিয়ে খামারি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। হাঁস, মুরগি ও গবাদিপশু পালন বিষয়ে আধুনিক ধারণা ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে তিনি প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন বলে তাঁদের অভিমত।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, নিরাপদ ও টেকসই হাঁস পালন নিশ্চিত করতে উন্নত জাত নির্বাচন, মানসম্মত খাদ্য ব্যবহার, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সময়মতো টিকাদান এবং রোগ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে খামারিদের দক্ষতা ও সচেতনতা বাড়াতে ভবিষ্যতেও মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি উদ্যোগ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং খামারিদের আন্তরিক প্রচেষ্টার সমন্বয় ঘটলে কুড়িগ্রামে হাঁস পালন শিল্প আরও বিকশিত হবে। এর ফলে প্রাণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে। সম্ভাবনাময় এই খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বিত উদ্যোগ ও খামারিদের ধারাবাহিক প্রশিক্ষণই হতে পারে ভবিষ্যৎ সাফল্যের অন্যতম ভিত্তি।


এ জাতীয় আরো খবর