শুক্রবার, জুলাই ২৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে তেল সংকটের জন্য পেট্রোল পাম্প মালিকরা দূষছেন বাইকারদের,বলছেন কৃত্রিম সংকট

  • জাকির হোসেন পিংকু,
  • ২০২৬-০৭-২৩ ১৯:৪৭:১৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে আবারও শুরু হয়েছে তেল সংকট। গত মঙ্গলবার(২১ জুলাই) রাত সাড়ে ১০টার দিকে তেল সংকটের গুঞ্জনে ফিলিং ষ্টেশনগুলোতে  লম্বা লাইন ধরতে শুরু করেন বাইকার ও অনান্য গাড়ীর চালকরা। বৃহস্পতিবার (২৩জুলাই) পর্যন্ত জেলার পাম্পগুলোতে এ অবস্থা অব্যহত রয়েছে। যখন যে পাম্প তেল দিচ্ছে তখন সে পাম্পে দেখা যাচ্ছে বাইকারদের লম্বা লাইন। গত বুধবার(২২ জুলাই) থেকে অনেক পাম্পে তেল দেয়া হচ্ছে রেশনিং করে। ২শ থেকে  সর্বোচ্চ ৫শত টাকার পর্যন্ত। তবে দিনের বেশিরভাগ সময়ই প্রতিটি পাম্প কোন নোটিস ছাড়াই বন্ধ থাকছে। পাম্প কর্তৃপক্ষ বাইকারদের জানাচ্ছেন, তেল শেষ। আসলে আবার দেয়া হবে।
এদিকে ৩ দিন ধরে চলা এ সংকটের জন্য পাম্প মালিকরা দূষছেন মূলত: বাইকারদের। তাঁরা বলছেন, তেল সরবরাহের ঘাটতি নেই। নিয়মিত যে তেল ডিপো সরবরাহ করত সেই পরিমান সরবরাহ অব্যহত রয়েছে। কিন্তু চাহিদা বেড়ে যাওয়ায়  পরিস্থিতি সামলানো যাচ্ছে না। তাঁরা বলছেন,গত মঙ্গলবার রাতে গুজবে বাইকাররা পাম্পগুলোতে ভীড় করা শুরু করেন। ফলে অল্প সময়ে শেষ হয়ে যায় পাম্পের মজুদ।  মালিকরা এই সংকটকে কৃত্রিম বলছেন। বাইকাররা অতিরিক্ত তেল নেয়ায় এই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তাঁরা।  ডিপো থেকে তো আর অতিরিক্ত তেল সরবরাহ করা হচ্ছে না  এমনটাই জানাচ্ছেন পাম্প কর্তৃপক্ষ।
জেলা শহরের এমদাদ পাম্পের মালিক মো. সুমন বলেন, যে বাইকার ১০০ টাকার তেল নিতেন তিনি এসে চাচ্ছেন ১ হাজার টাকার তেল। যিনি ৩০০ টাকার নিতেন তিনি নিচ্ছেন দেড় হাজার টাকার তেল। যিনি ৫০০ টাকার নিতেন তিনি ফুল ট্যাংক চাচ্ছেন। এভাবেই সংকটের শুরু। এভাবেই  সৃষ্টি হচ্ছে কৃত্রিম সংকট। ডিজেল নিয়ে এখনও সংকট শুরু না হলেও সেই সংকটও হতে পারে এমন  আাভাষ দেখা যাচ্ছে বলে জানান এই ব্যবসায়ী।
ইসলাম পাম্পের মালিক এবং পাম্প মালিক সমিতির সাবেক সহসভাপতি মো.ভিখু  আলী বলেন, পাম্পে তেল নিয়ে অনাকঙ্খিত ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে। সৃষ্টি হচ্ছে ভুল বোঝাবুঝি। প্রশাসনেরও বিভিন্নমুখী চাপ মোকাবেলা করতে হচ্ছে। ফলে ব্যবসা করা বিরক্তিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেল বিক্রি ব্যবস্থাপনা করাই এখন চ্যালেঞ্জ।
সাজেদুল ইসলাম সাজু(৬০) নামে একজন বাইকার বৃহস্পতিবার অেিবযাগ করেন , বুধবার রাতে ও বৃহস্পতিবার সকালে শহরের ৬টি পাম্প ঘুরে কোন পাম্পেই তিনি তেল পান ননি। কিছুটা আতংকিত হয়ে তেল সংগ্রহ এবং সংগ্রহের চেষ্টা করতে দেখা যায় তাঁকে।
এ অবস্থায় জেলা প্রশাসেনর  অফিসিয়াল ফেসবুক পোষ্টে জেলায় জ¦ালানি তেলের সংকট নাই ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক বলে জানানো হয়েছে। তেলের সরবরাহ নিয়ে কোন  অপপ্রচার বা গুজবে বিভ্রান্ত না হবার আহব্বান জানানো হয়েছে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল না নেবার জন্য বলা হয়েছে। পরিস্থিতি নজরদারি করা হচ্ছে বলেও জানানো হয়েছে। কেউ যদি পরিস্থতির অবনতি,কৃত্রিম সংকট,মূল্য বৃদ্ধি বা মজুদদারি চেষ্টা করে তবে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলছেন জেলা প্রশাসন। উল্লেখ্য জেলার পাঁচ উপজেলায় ৩৩টি পাম্প রয়েছে।


এ জাতীয় আরো খবর