রবিবার, জুলাই ২৬, ২০২৬

রপ্তানিতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য,৬৩.৪ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক:
  • ২০২৬-০৭-২৬ ২১:২৩:৪২
ছবি: সংগৃহীত।

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে পণ্য ও সেবা খাত মিলিয়ে ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের মাধ্যমে রপ্তানি খাতে ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
আজ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
ঘোষিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, পণ্য রপ্তানি থেকে ৫৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং সেবা খাত থেকে ৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার আয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, গত অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্য অর্জিত না হওয়ায় প্রবৃদ্ধির গতি প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। তবে নবনির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা এবং বাজেটে ঘোষিত ব্যবসাবান্ধব উদ্যোগ চলতি অর্থবছরে রপ্তানি খাতকে নতুন গতি দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ এখনও তৈরি পোশাক খাত থেকে আসে। এ নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, জাহাজ নির্মাণ ও পুনর্ব্যবহার, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
বাজার সম্প্রসারণের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এছাড়া আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে আরও চার থেকে পাঁচটি দেশের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও জানান, জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরের প্রস্তাব আগামী সংসদ অধিবেশনে উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বাংলাদেশের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ নিয়ে অনিশ্চয়তা অনেকটাই দূর হয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিকারকেরা আগামী তিন বছর বিদ্যমান আন্তর্জাতিক বাজার সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
রপ্তানি খাতের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিল্পকারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলএনজি আমদানি বাড়ানোর পাশাপাশি সরকার আরও দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে।
বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও উন্নত ব্যবসা পরিবেশ, নতুন বাণিজ্য চুক্তি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধি দেশের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

রপ্তানি,বাণিজ্য,প্রবৃদ্ধি


এ জাতীয় আরো খবর