মহেশখালী (কক্সবাজার)
মহেশখালী উপজেলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক অচলাবস্থার অবসান ঘটিয়ে নতুন নেতৃত্বের সূচনা হয়েছে।গভর্নিং বডির সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে প্রতিষ্ঠানের উপাধ্যক্ষ কুতুব উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে থাকা শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি ফিরবে। মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদ, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, তৎকালীন অধ্যক্ষ আমীর হোসাইন প্রায় তিন বছর ধরে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে দায়িত্ব পালনে অবহেলা, প্রশাসনিক অনিয়ম এবং আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে উত্থাপিত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় অধ্যক্ষের অনুপস্থিতির কারণে মাদ্রাসার প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা সৃষ্টি হয়। গুরুত্বপূর্ণ দাপ্তরিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, শিক্ষা কার্যক্রমের তদারকি,শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রশাসনিক সমন্বয়, উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক শিক্ষা পরিবেশ ব্যাহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন ব্যক্তিরা। পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে থাকায় সম্প্রতি মাদ্রাসার গভর্নিং বডির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় প্রতিষ্ঠানের সার্বিক পরিস্থিতি, অধ্যক্ষের দীর্ঘ অনুপস্থিতি এবং তাঁর বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পর্যালোচনা শেষে উপস্থিত সদস্যরা সর্বসম্মতিক্রমে উপাধ্যক্ষ কুতুব উদ্দিনকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মাদ্রাসা-সংশ্লিষ্ট একাধিক শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনিক নেতৃত্বের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম পরিকল্পনা অনুযায়ী পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছিল না। অনেক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি নিষ্পত্তি, সরকারি দপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক উদ্যোগ বাস্তবায়নেও জটিলতা তৈরি হয়েছিল। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের নেতৃত্বে এসব সমস্যার সমাধান হবে বলে তারা আশাবাদী।
স্থানীয় অভিভাবকদের ভাষ্য, পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়; এটি এলাকার ধর্মীয়, নৈতিক ও আধুনিক শিক্ষার অন্যতম কেন্দ্র। দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক সংকটে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুণ্ন হলেও নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে শৃঙ্খলা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে তারা প্রত্যাশা করছেন। এলাকার শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা বলেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান নিয়মিত দায়িত্ব পালন না করলে শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎও ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ করাকে তারা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ কুতুব উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করেছেন।তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা,শৃঙ্খলাপরায়ণতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। এদিকে, নতুন দায়িত্ব গ্রহণের পর মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান,পরীক্ষা পরিচালনা, শিক্ষক-কর্মচারী দের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
তবে তৎকালীন অধ্যক্ষ আমীর হোসাইনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে তাঁর বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে তাঁর বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
শিক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের জন্য নিয়মিত প্রশাসনিক নেতৃত্ব, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং কার্যকর তদারকি অপরিহার্য।
পুটিবিলা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার নতুন প্রশাসনিক নেতৃত্ব সেই লক্ষ্য কতটা বাস্তবায়ন করতে পারে, এখন সেদিকেই নজর শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের।