একটি শিশুর হাতে থাকার কথা ছিল
রঙিন খাতা, স্বপ্ন আঁকার পেন্সিল,
কিন্তু সে দাঁড়িয়ে আছে কারখানার ধোঁয়ায়,
লোহা আর ঘামের ভারে নুয়ে পড়া বিকেলে।
তার বয়স কত?
কেউ জানে না।
রাষ্ট্রের খাতায় তার কোনো নাম নেই,
জন্মের দিনটি হারিয়ে গেছে
অবহেলার পুরোনো অন্ধকারে।
নিবন্ধনহীন একটি শিশু
যেন ঠিকানাহীন একটি নৌকা-
যে ভেসে যায় শ্রমের স্রোতে,
শোষণের জালে,
অধিকারহীন জীবনের গভীর মোহনায়।
কারখানার শব্দে চাপা পড়ে যায়
তার স্কুলের ঘণ্টা,
ইটভাটার আগুনে পুড়ে যায়
তার শৈশবের রঙিন দুপুর।
যে শিশুর জন্মের স্বীকৃতি নেই,
তার স্বপ্নেরও যেন কোনো সাক্ষী নেই।
বয়স লুকিয়ে তাকে নামিয়ে দেওয়া হয়
শ্রমের নিষ্ঠুর মঞ্চে,
আর পৃথিবী দেখে শুধু তার কাজ,
দেখে না তার হারিয়ে যাওয়া খেলাঘর।
তাই আজ বিশ্ব শিশু শ্রম প্রতিরোধ দিবসে
একটি লাল কার্ড উঠুক অন্যায়ের বিরুদ্ধে,
একটি দৃঢ় আইন বলুক-
প্রতিটি জন্ম হবে নিবন্ধিত,
প্রতিটি শিশু পাবে পরিচয়ের নিরাপদ ছায়া।
হাসপাতালের প্রথম কান্না থেকে
রাষ্ট্রের প্রথম স্বীকৃতি পর্যন্ত
বন্ধন হোক অবিচ্ছেদ্য।
যে শিশুর জন্ম নিবন্ধিত,
সে শুধু একটি নাম নয়,
সে একটি অধিকার,
একটি ভবিষ্যৎ,
একটি সম্ভাবনার বাংলাদেশ।
চলো, আমরা এমন এক সকাল গড়ি
যেখানে কোনো শিশুর হাতে থাকবে না
হাতুড়ি, বস্তা কিংবা কারখানার বোঝা;
থাকবে বই, থাকবে মাঠ, থাকবে স্বপ্ন।
কারণ জন্মের কাগজ শুধু একটি সনদ নয়,
এটি শৈশব রক্ষার প্রথম প্রাচীর,
শিশুশ্রম বন্ধের সবচেয়ে শক্তিশালী ঘোষণা,
আর মানবিক পৃথিবীর দিকে
আমাদের সম্মিলিত অঙ্গীকার।
আজ প্রতিটি নিবন্ধিত জন্ম হোক
একটি মুক্ত শৈশবের জয়গান,
আর প্রতিটি শিশুর হাসি হোক
শ্রমমুক্ত আগামী দিনের জাতীয় সঙ্গীত।