চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে ডুবে জেসমিন ওরফে কারিমা (৮) ও ইসরাত খাতুন ওরফে বুড়ি(৭) নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। জেসমিন চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাখর আলী টিকলির চর গ্রামের জহুরুল ইসলামের মেয়ে এবং ইসরাত একই ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের চাকপাড়া গ্রামের মৃত কাজলের মেয়ে। মৃত দুই শিশু পাশপাশি দুই গ্রামের বাসিন্দা এবং সম্পর্কে ঘনিষ্ঠ আত্মীয়।
পরিবার,স্থানীয় জনপ্রতিনিধি,পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার(১২ জুন) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পরিবার ও স্থানীয়দের অগোচরে বাড়ির অদূরে বাখর আলী ঘাটে গোসল করতে নামে ৩ শিশু। এর মধ্যে সাঁতার না জানা জেসমিন ও ইসরাত পানিতে ডুবে গেলে সাথে থাকা মাহিন(৬) নামে অপর এক শিশু বাড়িতে খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্য ও এলাককাবাসী নদীতে তল্লাশী শুরু করে। কিন্তু শিশু দ’জনের খোঁজ না মিললে দুপুর পৌনে ১২টার পর ফায়ার সাাির্ভসে খবর দেয়া হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরী দল রাজশাহী থেকে ঘটনাস্থালে পৌঁছে বিকাল পৌনে ৩টার দিকে প্রথমে জেসমিনকে ও পরে বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে ইসরাতকে নদী থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে।
ডুবুরী লীডার আব্দুর রাজ্জচাক বলেন, জেসমিনকে দ্রতই উদ্ধার করা গেলেও ইসরাত কে উদ্ধারে ২ ঘন্টা সময় লাগে। ৩ শিশু পদ্মায় গোসলে নামার পর ২ শিশু কাউকে না জানিয়ে পানিতে নেমে ডুবে মারা যায় বলেও জানান লীডার রাজ্জাক।
মৃত জেসমিনের আপন চাচা ও ইসরাতের নানা মো. নাসির বলেন, মেয়েগুলো তঁর বাড়ি থেক্ইে তাঁর ছেলে মাহিনকে সাথে নিয়ে গোসলে যায়। ইসরাতের মা সন্তানদের নিয়ে তাঁর বাড়িতে কয়েকদিনের জন্য বেড়াতে এসেছিলেন। শিশুগুলো সাঁতার জানত না এবং স্থানীয় বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করত বলেও জানান নাসির।
সংশ্লিস্ট ১ নং ইউপি ওয়ার্ড সদস্য নুরুল ইসলাম ছবি বলেন, এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
সদর থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) একরামুল হোসাইন দুই শিশুর পদ্মায় ডুবে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, সদর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজ শুরু করেছে। এছাড়া নৌ-পুলিশ মরদেহ উদ্ধার সহ পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম শুরু করেছে।