প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটকে বড় ধরনের ঘাটতি ও ঋণনির্ভর বাজেট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির মতে, বাজেটে জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন যেমন নেই, তেমনি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বনির্ভর অর্থনীতি গড়ার সুস্পষ্ট রূপরেখাও অনুপস্থিত।
শুক্রবার রাজধানীর মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
তিনি বলেন, জুলাই আন্দোলন-পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতায় জনগণ যে ধরনের অর্থনৈতিক পরিবর্তন ও সংস্কার প্রত্যাশা করেছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি। তার মতে, জাতীয় ঐকমত্যের বিভিন্ন বিষয় ও জনমতের প্রতিফলন না থাকায় বাজেট বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ঘাটতি বাজেট নতুন কিছু নয়, তবে এবারের বাজেটে ঘাটতির পরিমাণ অত্যন্ত বড়। ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ২৯ হাজার কোটি টাকা। ফলে বিপুল অঙ্কের অর্থ ঘাটতি পূরণে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তার ভাষ্য, বাজেটে ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এতে একদিকে ঋণের চাপ বাড়বে, অন্যদিকে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হবে, যা কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
কর ব্যবস্থার প্রসঙ্গ টেনে গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজস্ব আদায়ের উচ্চ লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও কর প্রশাসনের দক্ষতা বৃদ্ধি বা অনিয়ম দূরীকরণে কার্যকর পরিকল্পনা দেখা যায়নি। একই সঙ্গে কর বৃদ্ধির সম্ভাব্য প্রভাব সাধারণ জনগণ ও শিল্পখাতের ওপর পড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়নের পথে কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ব্যয় বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা উল্লেখযোগ্য। এসব কারণে বাজেটের লক্ষ্য অর্জন কঠিন হয়ে উঠতে পারে বলে তার মত।
জামায়াতের পক্ষ থেকে জনকল্যাণমুখী ও বাস্তবভিত্তিক বাজেট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তবে সেই সুপারিশগুলোর প্রতিফলন প্রস্তাবিত বাজেটে দেখা যায়নি বলে দাবি করেন দলটির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। এ সময় দলের কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের একাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।
কী-শব্দ: জাতীয় বাজেট, জামায়াতে ইসলামী, বাজেট প্রতিক্রিয়া