শুক্রবার, মে ১৫, ২০২৬

লেবার দলে ঝড়, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগে স্টারমারের নেতৃত্বে নতুন সংকট

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৫-১৫ ০৯:১৫:৫০
ফাইল ছবি

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন রাজনৈতিক অস্থিরতার মুখে পড়েছে। দলটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং পদত্যাগ করায় প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার–এর নেতৃত্ব নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
বৃহস্পতিবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে স্ট্রিটিং বলেন, স্টারমারের নেতৃত্বের ওপর তার আর আস্থা নেই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় তিনি দাবি করেন, ইংল্যান্ড, স্কটল্যান্ড ও ওয়েলসের সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে লেবারের বড় পরাজয়ের প্রধান কারণ ছিল প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রিয়তা কমে যাওয়া।
৪৩ বছর বয়সী এই রাজনীতিক বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে স্টারমার আগামী সাধারণ নির্বাচনে দলকে কার্যকরভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেন না। তিনি দলীয় সংসদ সদস্য ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর প্রতি নতুন নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরুর আহ্বান জানান।
স্ট্রিটিংয়ের পদত্যাগের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই লেবার এমপি জশ সাইমন্স সংসদ সদস্যপদ ছাড়ার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, বৃহত্তর ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহাম–এর পার্লামেন্টে ফেরার সুযোগ তৈরি করতেই তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। ফলে এখন ওই আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
পরে অ্যান্ডি বার্নহামও নিশ্চিত করেন, তিনি উপনির্বাচনে অংশ নিতে দলের অনুমতি চাইবেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তার সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন লেবার পার্টির নেতৃত্বের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আনতে পারে।
এদিকে সাবেক মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার–কে ঘিরেও নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। আবাসন করসংক্রান্ত বিতর্কে মন্ত্রিসভা ছাড়লেও সম্প্রতি কর কর্তৃপক্ষ তাকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। ফলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের সম্ভাব্য মুখ হিসেবে তার নামও সামনে আসছে।
বর্তমানে চারজন কনিষ্ঠ মন্ত্রী পদত্যাগ করেছেন এবং ৮০ জনের বেশি লেবার এমপি স্টারমারকে পদ ছাড়তে অথবা সরে দাঁড়ানোর সময়সীমা নির্ধারণ করতে আহ্বান জানিয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে নেতৃত্বের চ্যালেঞ্জ জানাননি।
সংকটের মধ্যেই নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী হিসেবে জেমস মারে-কে নিয়োগ দিয়েছেন স্টারমার। পাশাপাশি ট্রেজারির চিফ সেক্রেটারি করা হয়েছে লুসি রিগবি-কে।
প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এক চিঠিতে ওয়েস স্ট্রিটিংকে জানান, তাকে মন্ত্রিসভায় আর না পাওয়ায় তিনি ব্যথিত। একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলা আবারও ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।
যদিও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় স্পষ্ট করেছে, স্টারমার পদত্যাগ করছেন না এবং তিনি সরকার পরিচালনার কাজ চালিয়ে যাবেন। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে রিফর্ম ইউকে ও গ্রিন পার্টি–র কাছে বড় ধাক্কা খেলেও তিনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছেন।
অর্থমন্ত্রী র‍্যাচেল রিভস–সহ লেবারের জ্যেষ্ঠ নেতারাও আপাতত স্টারমারের পক্ষেই অবস্থান নিয়েছেন। রিভস সতর্ক করে বলেছেন, প্রকাশ্য নেতৃত্ব সংকট দেশের অর্থনীতি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লেবার, স্টারমার, পদত্যাগ


এ জাতীয় আরো খবর