আমার একটা মস্ত বড়ো উঠোন ছিলো,
সসীমতার খুঁটি দিয়ে, কে যে সেথায় বেড়া দিলো !
উঠোন জুড়ে, জ্যোৎস্না ধোয়া ঘাস বিছানা
কার বারণে রাত পরীরা, এই উঠোনে আর আসে না !
জ্বলজ্বলে ওই শুকতারাটা, মিটিমিটিয়ে প্রহর গোণে,
আজও তবু আমার দু চোখ, মনের ঘরে স্বপ্ন বোনে।
ঊষার আলোর প্রথম চুমু, শুকতারাটা নিতোই নিতো,
বিদায় বেলায় পরীরা সব, ফিরে আসার কথা দিতো।
মস্ত বড়ো মনের দুখে, আমার একটা নদী ছিলো,
কাঁটাতারের ব্যথা বুকে, ঢেউ গুলো সব ফিরে গেলো !
উজান ভাটায় নাও ভাসিয়ে, একূল ওকূল যায় না দেখা,
সবুজ অবুঝ মন রাঙিয়ে, উড়িয়ে দিতাম স্বপ্নপাখা।
করিম চাচার বাউল গানে, উদাস মনের হদিস জানে,
বাউল গানের সার যে জানে, মানব প্রেমের মন্ত্র মানে !
উজান স্রোতে ভাসিয়ে ভেলা, ফিরতাম ঠিক সন্ধ্যেবেলা !
রঙিন ছিলো ছেলেবেলা, এক্কাদোক্কা সাঁঝের বেলা।
বিষন্নতার আলিঙ্গনে, হংসমিথুন মৌনীবাবা,
বড়ো বেলার দহন মনে, হারিয়েছে সেই জীবন প্রভা।
পথের দিশা ভুলে গিয়ে, সন্ধি আপোষ সব করেছি,
সবুজ অবুঝ জংলি টিয়ে, রাত পরীদের কতো ডেকেছি !
হয়তো কোন কিশোর চোখে, রাত পরীরা আজও আসে,
শাশ্বত সেই নীল আকাশে, চাঁদ তারারা ঠিকই ভাসে।
মহাকালের দূত যে হেসে, বলছে আমায় কানে কানে,
হারিয়েছো যা নতুন বেশে, আসছে জন্মে গানে গানে,
ছড়িয়ে যাবে প্রাণে প্রাণে, এটাই হলো বাঁচার মানে।
পরজন্মের মহৎ দানে, ছড়িয়ে যাবে দানে দানে,
উঠোন আমার একটুখানি, ছোট ছোট বেড়ার খুঁটি,
বেড়া ভাঙার গান যে শুনি, হৃদয় ভেঙে কুটি কুটি !