রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

সীমান্ত উত্তেজনার অবসান: যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-১২-২৭ ১০:৫৯:১১
ছবি: সংগৃহীত।

টানা কয়েক সপ্তাহের সীমান্ত সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছেছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দুই প্রতিবেশী দেশ থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে দেশ দুটি তাৎক্ষণিক অস্ত্রবিরতির ঘোষণা দেয়।
যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, স্বাক্ষরের সঙ্গে সঙ্গেই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে, যা স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা থেকে শুরু হয়। এই চুক্তির আওতায় সব ধরনের সামরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। কোনো পক্ষই অপর পক্ষের সামরিক স্থাপনা, বেসামরিক নাগরিক, জনসাধারণের সম্পদ কিংবা অবকাঠামোর ওপর আক্রমণ চালাতে পারবে না। যুদ্ধবিরতির বিধান সীমান্তসংলগ্ন সব এলাকা ও ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। এর মধ্যে ‘এমারেল্ড ট্রায়াঙ্গল’ বা পান্না ত্রিভুজ নামে পরিচিত একটি ভূখণ্ডকে ঘিরে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া ও লাওসের সীমানা যেখানে মিলিত হয়েছে, সেই এলাকাটি প্রাচীন মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনার জন্য ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই ভূখণ্ডকে উভয় দেশই নিজেদের অংশ বলে দাবি করে আসছে।
ঐতিহাসিকভাবে এই বিরোধের সূচনা হয় ১৯০৭ সালে, যখন তৎকালীন ঔপনিবেশিক শক্তি ফ্রান্স প্রকাশিত একটি মানচিত্রে পান্না ত্রিভুজকে কম্বোডিয়ার অংশ হিসেবে দেখায়। স্বাধীনতা লাভের পরও কম্বোডিয়া ওই ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখে, ফলে থাইল্যান্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্ব দীর্ঘস্থায়ী হয়।
দীর্ঘ কয়েক দশকের সংঘাতের পর প্রায় ১৫ বছর আগে দুই দেশ যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছালেও গত বছরের মে মাস থেকে ফের উত্তেজনা বাড়তে থাকে। চলতি বছরের জুলাইয়ের শেষ দিকে সীমান্তে ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে উভয় দেশের সেনাবাহিনী। পাঁচ দিনের ওই সংঘর্ষে দুই দেশের অন্তত ৪৮ জন নাগরিক নিহত হন এবং প্রায় ৩ লাখ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হন।
সাম্প্রতিক এই যুদ্ধবিরতিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল আশা করছে, এই সমঝোতার মাধ্যমে দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ শান্তিপূর্ণ আলোচনার পথে এগোবে।

কী ওয়ার্ডস:
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি, পান্না ত্রিভুজ, সীমান্ত সংঘাত


এ জাতীয় আরো খবর