বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিরতা, সংঘাত ও সহিংসতার মধ্যে ২০২৫ সালে ‘নিরাপত্তার মরূদ্যান’ হয়ে উঠেছে ইউরোপের ক্ষুদ্র দেশ অ্যান্ডোরা। পিরেনিস পর্বতমালার কোলে ফ্রান্স ও স্পেনের মাঝে অবস্থিত এই শান্তিপূর্ণ দেশটিকে এবার বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ দেশের স্বীকৃতি দিয়েছে আন্তর্জাতিক ডেটাবেইজ সংস্থা নাম্বিও।
নাম্বিওর সদ্য প্রকাশিত ‘সেফটি ইনডেক্স ২০২৫’ অনুসারে, অপরাধ প্রবণতা, সামাজিক অস্থিরতা, সহিংসতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকারিতা ইত্যাদি বিচারে ৮৪.৭ স্কোর নিয়ে শীর্ষে রয়েছে অ্যান্ডোরা। এর পরেই রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (৮৪.৫), কাতার (৮৪.২), তাইওয়ান (৮২.৯) ও ওমান (৮১.৭)।
দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে শ্রীলঙ্কা ৫৯তম, পাকিস্তান ৬৫তম এবং ভারত ৬৬তম স্থানে থাকলেও, বাংলাদেশের অবস্থান বেশ নিচে—১২৬তম। এ তালিকায় বাংলাদেশের নিরাপত্তা সূচক মাত্র ৪৪-এর ঘরে। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার অবস্থানও বাংলাদেশের চেয়ে মাত্র কয়েক ধাপ নিচে-১৪০তম।
শীর্ষ ১০ নিরাপদ দেশ (নাম্বিও সেফটি ইনডেক্স ২০২৫ অনুযায়ী):
ক্রম দেশ নিরাপত্তা সূচক
১ অ্যান্ডোরা ৮৪.৭
২ সংযুক্ত আরব আমিরাত ৮৪.৫
৩ কাতার ৮৪.২
৪ তাইওয়ান ৮২.৯
৫ ওমান ৮১.৭
৬ আইল অফ ম্যান ৭৯.০
৭ হংকং ৭৮.৫
৮ আর্মেনিয়া ৭৭.৯
৯ সিঙ্গাপুর ৭৭.৪
১০ জাপান ৭৭.১
তালিকার একেবারে শেষে, ১৪৮তম স্থানে রয়েছে ভেনেজুয়েলা—যা ২০২৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ দেশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। অপরাধ, গ্যাং সহিংসতা ও দুর্বল রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা চিত্রকে ভয়াবহ করেছে।
নাম্বিওর সেফটি ইনডেক্স বিভিন্ন দেশের নাগরিকদের নিজস্ব অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়। অনলাইনে জমা পড়া তথ্য ও জনমত বিশ্লেষণের মাধ্যমে এই সূচক নির্ধারিত হয়। এতে বিবেচনায় নেওয়া হয়:
সাধারণ অপরাধের হার
রাতে একা চলাফেরা কতটা নিরাপদ
আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিক্রিয়া
চুরি, ছিনতাই, সহিংসতা ও মাদক অপরাধের প্রবণতা
যদিও এই ডেটা সরকারিভাবে নিশ্চিত নয়, তবে এটি নাগরিক বাস্তবতার একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরে।
বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতার পাশাপাশি রাজনৈতিক অস্থিরতা, দুর্নীতি, সড়কে নিরাপত্তাহীনতা এবং নারী-শিশু নির্যাতনের মতো ঘটনার আধিক্য এই সূচকে পিছিয়ে পড়ার মূল কারণ।
নিরাপত্তা কেবল সামরিক বাহিনী বা পুলিশ দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না; এর সঙ্গে জড়িত থাকে সামাজিক সচেতনতা, ন্যায়বিচার, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং রাষ্ট্রীয় স্বচ্ছতা। অ্যান্ডোরা, ওমান বা তাইওয়ানের মতো দেশগুলো নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে কারণ তারা আইনের শাসন, নাগরিক অধিকার এবং সুশাসনকে প্রাধান্য দিয়েছে।
এটি বাংলাদেশের জন্য এক বড় বার্তা: উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো নয়, নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করাও একটি মৌলিক উন্নয়ন নির্দেশক।
বিশ্বনিরাপত্তারতালিকা,নিরাপদদেশ২০২৫,BangladeshSafetyRanking,NumbeoSafetyIndex2025,SafeCountriesList