সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

রুশ তেল কিনলে অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে: ভারত-চীনকে ট্রাম্প প্রশাসনের হুঁশিয়ারি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-২৩ ০১:৪৩:১৭
ছবি সংগৃহিত

বিশ্ব জ্বালানিবাজারে উত্তেজনা চরমে। রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ না করলে চীন, ভারত ও ব্রাজিলের অর্থনীতি গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে-এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম।
তার দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এর প্রশাসন রুশ তেল আমদানিকারক দেশগুলোর ওপর শতভাগ শুল্ক (১০০%) আরোপের পরিকল্পনা করছে।
তিনি সরাসরি বলেন, "রাশিয়ার সস্তা তেল কিনে যদি কেউ যুদ্ধযন্ত্রে জ্বালানি যোগায়, তাহলে তাদের অর্থনীতি ভেঙে ফেলাই হবে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ।"
রিপাবলিকান সিনেটর গ্রাহাম ফক্স নিউজে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন— "চীন, ভারত ও ব্রাজিল-এই তিন দেশ মিলে রাশিয়ার তেলের ৮০ শতাংশ কিনছে। এদের কারণেই পুতিন ইউক্রেনে যুদ্ধ চালিয়ে যেতে পারছেন।"
তিনি আরও বলেন, "তোমরা যা করছ, তা রক্তমাখা অর্থনৈতিক লেনদেন। যুদ্ধের অপরাধের দায় তোমাদের ঘাড়েও বর্তায়।"
গ্রাহামের এমন মন্তব্য সেই সময় এলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কনীতির খসড়া তৈরি করছে।
সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেও জানিয়েছেন- “৫০ দিনের মধ্যে যদি রাশিয়া শান্তি আলোচনায় না আসে, তাহলে রুশ তেল আমদানির ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।”
এরই ধারাবাহিকতায় সিনেটর গ্রাহাম বলেন- "আমরা শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়, পুরো অর্থনৈতিক কাঠামো ভেঙে দিতে প্রস্তুত। পুতিনকে পেছনে সরাতে হলে আমদানিকারকদেরও চাপ দিতে হবে।"
উল্লেখ্য, গ্রাহাম ইতিপূর্বেও রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর ওপর ৫০০ শতাংশ শুল্ক বসানোর বিল সিনেটে উত্থাপন করেছিলেন।
ওয়াশিংটনের এই হুঁশিয়ারি দিল্লিতে কড়া প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়-"আমরা এ বিষয়ে প্রকাশিত খবর দেখেছি এবং গভীরভাবে নজর রাখছি। কিন্তু আমাদের জনগণের জ্বালানি নিরাপত্তা সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই আমরা সিদ্ধান্ত নিচ্ছি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের দ্বিমুখী মানসিকতা গ্রহণযোগ্য নয়।"
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ভারত সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং ভবিষ্যতে এ নিয়ে কূটনৈতিক টানাপড়েন আরও বাড়তে পারে।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এ বিষয়ে বলেছেন-"চীন, ভারত ও ব্রাজিলের উচিত এখনই কূটনৈতিকভাবে সক্রিয় হওয়া এবং পুতিনকে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করা। অন্যথায়, বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক চাপে তারাও বিপদে পড়বে।"
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কূটনৈতিক লক্ষ্য মূলত রাশিয়াকে বিশ্ব বাণিজ্য থেকে বিচ্ছিন্ন করা। তবে বিশ্বে রুশ জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতা এতটাই গভীর যে দ্রুত সমাধান কঠিন।
বিশ্ব রাজনীতিতে এই ধরণের হুমকি ও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ‘নতুন স্নায়ুযুদ্ধ’ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা সিদ্ধান্ত বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামে অস্থিরতা আনতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিশ্বে এখনো বহু উন্নয়নশীল দেশ রাশিয়ার তেলেই নির্ভরশীল, সেক্ষেত্রে শুল্ক আরোপ ও নিষেধাজ্ঞা শুধু রাজনৈতিক নয়, মানবিক সংকটও সৃষ্টি করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসনের হুমকি: রুশ তেল কিনলে ১০০% শুল্ক
সিনেটর গ্রাহাম বলছেন: চীন, ভারত, ব্রাজিল রক্তমাখা বাণিজ্য করছে
ভারত জানালো: জ্বালানি নিরাপত্তা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
ন্যাটো বলছে: পুতিনকে শান্তিচুক্তিতে বাধ্য করুন
নতুন কূটনৈতিক উত্তেজনার ইঙ্গিত বিশ্লেষকদের

কীওয়ার্ডস: রাশিয়াতেলনিষেধাজ্ঞা,যুক্তরাষ্ট্রভারতচীন,স্নায়ুযুদ্ধ২০২৫


এ জাতীয় আরো খবর