রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

নতুন দিগন্তে আমাজন: ১০ লাখ রোবটের যুগে প্রবেশ, কর্মসংস্থান সংকটে মানবকর্মীরা

  • সকালের আলো প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৭-০৩ ০০:৫৯:০৩
ছবি সংগৃহিত

বিশ্বখ্যাত ই-কমার্স জায়ান্ট আমাজন তার গুদাম ব্যবস্থাপনায় অটোমেশনের এক নতুন অধ্যায় শুরু করেছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি ঘোষণা করেছে, তাদের বিভিন্ন ফুলফিলমেন্ট সেন্টার ও গুদামে ১০ লাখতম রোবট আনুষ্ঠানিকভাবে যুক্ত হয়েছে, যা এখন মানুষের কাজের জায়গায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, জাপানের এক গুদামে এই ১০ লাখতম রোবট কাজ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, অদূর ভবিষ্যতে এই সংখ্যাটি মানব কর্মীর সমান বা তার থেকেও বেশি হতে পারে, যা শিল্প ক্ষেত্রে বিশাল পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।
আমাজন তাদের রোবটগুলোর দক্ষতা বাড়ানোর জন্য তৈরি করেছে নিজস্ব জেনারেটিভ এআই মডেল ‘ডিপ ফ্লিট’। এই প্রযুক্তি রোবটগুলোকে গুদামের মধ্যে গতি ও সমন্বয় আরও কার্যকর করতে সাহায্য করছে। এর ফলে গড়ে রোবটের চলাচলের সময় ১০ শতাংশ কমে এসেছে, যা আমাজনের কার্যক্ষমতা ও উৎপাদনশীলতাকে বহুগুণ বৃদ্ধি করবে।
২০২৩ সালে আমাজন প্রথমবারের মতো চালু করে হিউম্যানয়েড রোবট ‘ডিজিট’। এটি ৫ ফুট ৯ ইঞ্চি উচ্চতার এবং ১৪৩ পাউন্ড ওজনের, যা হাঁটতে, বসতে এবং হাতে নেয়ার মতো কাজ করতে সক্ষম। ২০২৫ সালের মে মাসে ‘ভালকান’ নামের রোবটিক বাহু চালু হয়, যা ১০ লাখ পণ্যের মধ্যে ৭৫ শতাংশ পণ্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংগ্রহ ও স্থানান্তর করতে পারে। ‘ভালকান’ স্পর্শ অনুভব করার ক্ষমতা সম্পন্ন প্রথম রোবট হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে।
শুধুমাত্র গুদামে নয়, আমাজন ‘লাস্ট মাইল ডেলিভারি’ অর্থাৎ শেষ দোরগোড়ায় পণ্য পৌঁছে দেওয়ার কাজে রোবট ব্যবহার শুরু করেছে। বর্তমানে আমাজনের প্রায় ৬৫% ডেলিভারি কোনো না কোনো রকমে রোবটের মাধ্যমে সম্পন্ন হচ্ছে। এর ফলে গুদামে কর্মীদের সংখ্যা গড়ে মাত্র ৬৭০ জনে নেমে এসেছে, যা গত ১৬ বছরে সর্বনিম্ন। ২০১৫ সালে যেখানে এক কর্মী গড়ে ১৭৫টি প্যাকেজ হ্যান্ডেল করতেন, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩,৮৭০ প্যাকেজে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে আমাজন রোবটের মাধ্যমে বছরে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় করতে সক্ষম হবে। তবে এ সাফল্যের পেছনে রয়েছে মানবজীবনের বড় চ্যালেঞ্জ। ২০১৯ সাল থেকে কোম্পানি ৭ লাখের বেশি কর্মীকে নতুন প্রযুক্তি ও অটোমেশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দিয়েছে। যদিও নতুন ধরনের চাকরির সৃষ্টি হচ্ছে, বাস্তবতা হলো অনেক কর্মী তাদের পুরনো কাজ হারাচ্ছেন। এমনকি আমাজনের করপোরেট স্তরের কর্মীরাও কাজের সংকটে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।
সিইও অ্যান্ডি জ্যাসি এক অফিসিয়াল চিঠিতে জানিয়েছেন, এআই ও অটোমেশন ব্যবহারের কারণে করপোরেট পর্যায়েও কর্মী সংকোচন হতে পারে এবং মানুষের চাহিদাও কমে আসবে। তিনি একই সঙ্গে নতুন সুযোগের কথাও উল্লেখ করেছেন, কিন্তু সতর্ক করেছেন যে, এটি মানব শ্রমের জন্য বড় একটি পরিবর্তনের সূচনা।
অতএব, যখন আমাজন অটোমেশনের শিখরে পৌঁছেছে, তখন মানবজীবনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তায় পড়েছে। রোবট ও এআই ব্যবহারে লাভজনকতা বাড়লেও কর্মসংস্থানের সংকট ও সামাজিক প্রভাব সম্পর্কে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে। এই প্রযুক্তি বিপ্লবের মধ্যে মানব কর্মীরা কীভাবে নিজেদের স্থান সুরক্ষিত করবে—এটাই এখন প্রধান প্রশ্ন।


এ জাতীয় আরো খবর