গল টেস্ট ড্র হওয়ার পর এখন টেস্ট সিরিজ নির্ধারিত হবে কলম্বোতে। আগামীকাল বুধবার (২৬ জুন) শুরু হতে যাওয়া বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা দ্বিতীয় টেস্ট ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সিরিজে সমতা থাকার কারণে এই ম্যাচটি রূপ নিয়েছে ফাইনাল লড়াইয়ে। আর এই গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে টাইগার শিবিরে ফিরছেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ, যিনি অসুস্থতার কারণে প্রথম ম্যাচে খেলতে পারেননি।
প্রধান কোচ ফিল সিমন্স আজ সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন, মিরাজ দ্বিতীয় টেস্টে খেলছেন। সিমন্স বলেন, "সে বিশ্বের দ্বিতীয় সেরা অলরাউন্ডার। মিরাজের উপস্থিতি ব্যাটে-বলে আমাদের ভারসাম্য এনে দেবে।"
ক্রিকেটের রাজকীয় সংস্করণে মিরাজের পরিসংখ্যান সত্যিই চমকপ্রদ। টেস্ট অলরাউন্ডার র্যাংকিংয়ে তিনি রেটিং ৩২৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছেন, তার ওপরে কেবল ভারতের রবীন্দ্র জাদেজা (৪০০ পয়েন্ট)। ২০১৯ থেকে শুরু হওয়া টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের পক্ষে ৮৭ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ, যা দলের মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। তাকে ছাড়িয়ে আছেন শুধু তাইজুল ইসলাম (৯৯ উইকেট)।
বাংলাদেশ এর আগে ২৭টি টেস্ট খেলেছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, কিন্তু জয় পেয়েছে কেবল একটিতে-২০১৭ সালে কলম্বোর এই পিসারা ওভালেই। সেদিক থেকে দেখলে, আট বছর পর শ্রীলঙ্কায় আরেকটি টেস্ট জয় মানে শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং ইতিহাস গড়া। কারণ, শ্রীলঙ্কার মাটিতে এখনো বাংলাদেশ টেস্ট সিরিজ জিততে পারেনি।
গল টেস্টে নাজমুল হোসেন শান্ত করেছিলেন জোড়া সেঞ্চুরি, যার মাধ্যমে তিনি ঢুকে পড়েছেন রেকর্ড বইয়ে। মুশফিকুর রহিম প্রথম ইনিংসে ১৬৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৯ রান করে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তুলেছিলেন। তবে হতাশ করেছেন জাকের আলী অনিক (৮ ও ২) এবং এনামুল হক বিজয় (০ ও ৪)।
মিরাজের ফেরার ফলে এক ব্যাটারকে বাদ দিয়ে খেললে এই দুইজনের যেকোনো একজন কলম্বো টেস্ট থেকে বাদ পড়বেন বলেই ধরে নেওয়া যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে তিন স্পিনার (নাঈম, তাইজুল ও মিরাজ) এবং দুই পেসার (হাসান মাহমুদ ও নাহিদ রানা) নিয়ে মাঠে নামতে পারে বাংলাদেশ।
কলম্বোর এসএসসি মাঠ ঐতিহাসিকভাবে স্পিন সহায়ক। এখানকার ৪৫টি টেস্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রথম ১০ সফল বোলারের মধ্যে সাতজনই স্পিনার। বর্তমানে খেলা বোলারদের মধ্যে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার কেশব মহারাজ সেরা দশে আছেন, যিনি এখানকার এক ম্যাচেই নিয়েছেন ১২ উইকেট।
বাংলাদেশ দলেও তাইজুল, নাঈম ও মিরাজের স্পিন ত্রয়ী একসঙ্গে খেলার সম্ভাবনা থাকলেও ফিল সিমন্স চূড়ান্ত একাদশ নিয়ে এখনো কোনো ইঙ্গিত দেননি। তিনি বলেন- “উইকেট যেমনই হোক, আগে মানিয়ে নিতে হবে। গলে নাঈম ভালো করেছে। তাকে বাদ দেওয়া কঠিন। তবে দলের স্বার্থে সেরা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ম্যাচের আগের দিন অনুশীলনে হালকা চোট পান অধিনায়ক শান্ত, তবে তা গুরুতর নয় বলে জানিয়েছেন কোচ সিমন্স। তিনি বলেন-"শান্ত সুস্থ আছেন এবং ম্যাচ খেলতে পারবেন।"
দ্বিতীয় টেস্ট শেষ হবে ২৯ জুন। এরপর শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ (২, ৫ ও ৮ জুলাই), যার প্রথম দুটি ম্যাচ হবে কলম্বোর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে এবং শেষটি পাল্লেকেলেতে। প্রতিটি ম্যাচ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টায় শুরু হবে। এরপর তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়ে শেষ হবে এই সফর।
মিরাজের ফিরে আসা মানে শুধু একজন অলরাউন্ডারের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং মানসিক ও কৌশলগতভাবে দলকে আরও বেশি পরিপক্ব করে তোলা। দ্বিতীয় টেস্টে জয় মানেই শ্রীলঙ্কার মাটিতে প্রথম টেস্ট সিরিজ জয়-একটি নতুন ইতিহাস। টাইগারদের হাতে এখন সেই সুযোগ,যেটি হয়তো আবার আসতে বহু বছর লেগে যাবে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটপ্রেমীদের দৃষ্টি এখন কলম্বোর এসএসসিতে-যেখানে শুধুই আরেকটি ম্যাচ নয়, বরং লুকিয়ে রয়েছে গর্ব করার মতো এক অধ্যায়ের সম্ভাবনা।