ঢাকা: ২৩ জুন ২০২৫
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার মুখে থাকা ইরানকে সহায়তার ঘোষণা দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
আজ সোমবার (২৩ জুন) মস্কোতে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে পুতিন স্পষ্ট ভাষায় জানান, ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের কোনো ন্যায্যতা নেই এবং রাশিয়া ইরানি জনগণের পাশে থাকবে।
ক্রেমলিনে আয়োজিত এই বৈঠকে পুতিন বলেন, “ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘর্ষে আমাদের অবস্থান পরিষ্কার। ইরানের বিরুদ্ধে বিনা উস্কানিতে চালানো হামলার কোনো ভিত্তি নেই। আমরা বিশ্বাস করি, ইরান আত্মরক্ষার অধিকার রাখে।”
রুশ বার্তা সংস্থা তাস জানিয়েছে, ১৩ জুন থেকে ইসরায়েল প্রতিদিন ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়ে আসছে। ২২ জুনের মার্কিন সহযোগিতায় ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ঘটনায় উত্তেজনা চরমে উঠেছে।
এই প্রেক্ষাপটেই ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাশিয়া সফরে আসেন, যার রাজনৈতিক গুরুত্ব অনস্বীকার্য।
বৈঠকের শুরুতে পুতিন বলেন- “এই অঞ্চল এখন এক নাটকীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। এমন সময়ে আপনার সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।”
তিনি আরও যোগ করেন- “ইরানের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, বন্ধুত্বপূর্ণ ও নির্ভরযোগ্য। আমরা ইরানি জনগণকে সহায়তা করতে প্রস্তুত।”
এদিকে আরাগচি জানান, “ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অবৈধ। মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি বিনষ্ট করছে এই দুটি দেশের উগ্র নীতিই। রাশিয়ার সমর্থন ও নিন্দা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া আজ আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়িয়েছে।”
এই বৈঠকে আরাগচি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনি এবং নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের শুভেচ্ছা পুতিনের কাছে পৌঁছে দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এই শুভেচ্ছা বিনিময় শুধু কূটনৈতিক ভদ্রতা নয়, বরং দুই দেশের মধ্যে কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার হওয়ার ইঙ্গিত।
বিশ্ব পররাষ্ট্র বিশ্লেষকদের মতে, এই বৈঠক এবং রাশিয়ার অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যে একটি নতুন জোট রাজনীতির বার্তা দিচ্ছে।
একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ অভিযান, অন্যদিকে ইরান-রাশিয়ার ঘনিষ্ঠতা-এর প্রেক্ষিতে একটি বড় সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, “রাশিয়া যদি সরাসরি ইরানকে সামরিক বা কৌশলগত সহায়তা দেয়, তবে পরিস্থিতি কেবল মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এটি ইউক্রেন যুদ্ধের ধারাবাহিকতায় পশ্চিমা বিশ্ব ও রুশ জোটের নতুন ফ্রন্ট তৈরি করতে পারে।”
১. রাশিয়ার অবস্থান স্পষ্ট: ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অবৈধ বলে মনে করছে মস্কো।
২. সহযোগিতার বার্তা: ইরানি জনগণের পাশে থাকার ঘোষণা পুতিনের কূটনৈতিক বার্তা মাত্র নয়, সম্ভাব্য সহযোগিতার প্রস্তুতির ইঙ্গিত।
৩. ইরানের বার্তা পৌঁছাল রাশিয়ার মিত্রদের কাছে: খামেনি ও পেজেশকিয়ানের শুভেচ্ছা দিয়ে তেহরান রাশিয়ার সঙ্গে রাজনৈতিক কূটনীতির ঘনিষ্ঠতা নিশ্চিত করল।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনীতিতে রাশিয়ার সরাসরি অবস্থান গ্রহণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
ইরানের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে পুতিন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের বিরুদ্ধে একপ্রকার শক্ত রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছেন।
এখন প্রশ্ন হলো, রাশিয়া কতদূর যাবে?
কূটনৈতিক সহানুভূতি নাকি সামরিক সহায়তা-পরবর্তী সপ্তাহগুলোতে এটাই হয়ে উঠবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র: তাস নিউজ, রাশিয়ার ক্রেমলিন প্রেস ব্রিফিং, আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক মতামত