আজো মনে পড়ে,
সেই উজ্জ্বল দুপুর,
সেই স্কুলের ধুলো মাখা আঙিনা,
যেখানে প্রথম দেখেছিলাম তোমায়—
নাকে ছোট্ট নোলক,
হরিণ চোখে একরাশ চঞ্চলতা,
চুলগুলো বাতাসে ওড়ে
অপরূপ ছন্দে,
আর আমি নির্বাক দাঁড়িয়ে থাকি,
শুধু তোমায় দেখি…
তুমি হাঁটতে নিজের ছন্দে,
কখনো কি টের পেয়েছিলে
পেছনে একটা হৃদয় পড়ে থাকত?
তোমার নির্মল হাসির মাঝে
ঢেউ খেলত রোদের সোনালি আলো,
আর আমার বুকের ভেতর
নিরব ঢেউ উঠত—
তোমাকে কিছু বলতে চেয়েও
বলা হয়ে উঠত না…
সেই সন্ধ্যাগুলো,
যখন বাড়ি ফেরার পথে
আমি চুপিচুপি খুঁজতাম তোমার ছায়া,
তুমি হয়তো জানতেই না—
একজোড়া চোখ
অপলক তাকিয়ে থাকত তোমার চলে যাওয়া পথের দিকে।
সেই নোলকের নিচে লুকানো
একটা কিশোরীর স্বপ্ন,
আমার সব না বলা কথা হয়ে
আজও বেঁচে আছে…
আজ এত বছর পরে,
পুনর্মিলনীতে তুমি হয়তো আসবে,
হয়তো আবার দেখব তোমায়,
কিন্তু সেই নোলক পরা কিশোরী কি আজও আছে?
আজও কি সেই চোখের তারায়
জ্বলবে কৈশোরের জোনাকি আলো?
হয়তো উত্তর জানা নেই,
তবু মনে মনে বলি—
তুমি এখনো আমার হৃদয়ের নোলক হয়ে আছো,
অক্ষয়, চিরন্তন…