সোমবার, জুলাই ২৭, ২০২৬

টিউলিপের চিঠি কূটনৈতিক বার্তা? ড. ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ চেয়ে অনুরোধ শেখ হাসিনার ভাগ্নির

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-০৮ ১৫:২৪:১৬
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা-৮ জুন ২০২৫
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছেন ব্রিটিশ এমপি টিউলিপ সিদ্দিক।
সাম্প্রতিক একটি কূটনৈতিক সফরে লন্ডন যাওয়ার আগে ড. ইউনূসের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে এই অনুরোধ জানিয়েছেন সাবেক ব্রিটিশ সিটি মিনিস্টার।
ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য গার্ডিয়ান’ প্রকাশিত এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রকাশিত চিঠিতে টিউলিপ সিদ্দিক স্পষ্ট করে লিখেছেন, বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি রাজনৈতিক প্ররোচনামূলক মামলার বিষয়ে তার বক্তব্য ব্যাখ্যা করার সুযোগ চান তিনি।
চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, "আপনার (ড. ইউনূস) সফরকালে যদি সাক্ষাৎ সম্ভব হয়, তাহলে আমার ওপর আনীত অভিযোগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার সম্পর্ক ঘিরে গঠিত ভুল ধারণাগুলো স্পষ্ট করার সুযোগ পাবো।"
উল্লেখ্য, টিউলিপ সিদ্দিক বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাজ্যের লেবার পার্টির এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ও তার মা বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার একটি অভিজাত এলাকায় ৭ হাজার ২০০ বর্গফুটের একটি প্লট অবৈধভাবে দখল করেছেন-যা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আদায় করা হয়।
তবে এই অভিযোগকে তিনি পুরোপুরি "ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত" হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছেন।
চিঠিতে টিউলিপ বলেন, "আমি ব্রিটেনে জন্মেছি, এখানেই সংসদ সদস্য। বাংলাদেশের প্রতি ভালোবাসা থাকলেও আমি সেখানে কখনো বসবাস করিনি বা কোনও ব্যবসায়িক স্বার্থ নেই।"
তিনি অভিযোগ করেন, লন্ডন থেকে তার আইনজীবীরা বারবার দুদকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ঢাকা শহরের অজানা ঠিকানায় নথিপত্র পাঠানো হয়েছে, এবং কোনো আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করা হয়নি।
গত বছর যুক্তরাজ্যের সরকারি মানদণ্ডবিষয়ক উপদেষ্টা লরি ম্যাগনেস তদন্ত শেষে তাকে সম্পূর্ণ নির্দোষ ঘোষণা করেন।
তদন্তে টিউলিপের বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণিত দুর্নীতির তথ্য পাওয়া যায়নি, যদিও সতর্কবার্তায় বলা হয়,
“বাংলাদেশের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কজনিত কারণে ভবিষ্যতে সুনামের ঝুঁকি রয়ে গেছে।”
এ প্রসঙ্গে তদন্তে ২০১৩ সালের একটি মস্কো সফরের বিষয়েও অনুসন্ধান হয়-যেখানে একটি চুক্তির অনুষ্ঠানে তার উপস্থিতিকে ঘিরে মিডিয়ায় বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছিল।
টিউলিপ জানান, সেই সফর ছিল একান্তই ব্যক্তিগত ও পর্যটন উদ্দেশ্যে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ড. ইউনূসের এটি প্রথম সরকারি লন্ডন সফর।
সূত্র জানায়, তিনি ব্রিটেনের রাজা চার্লস এবং প্রধানমন্ত্রী কিয়্যার স্টারমারের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সেখানে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অবস্থা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ইস্যুতে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে টিউলিপের পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানোকে কূটনৈতিক মহলে একটি রাজনৈতিক বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু ব্যক্তিগত আত্মপক্ষ সমর্থনের প্রচেষ্টা নয়, বরং যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ছায়া পড়ার একটি নিদর্শন।
টিউলিপ সিদ্দিক দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের সঙ্গে তার আত্মীয়তার কারণে আলোচনার কেন্দ্রে।
শেখ হাসিনার সরকারের সমালোচনার মুখে থাকা অবস্থায় তাঁর বক্তব্য ও অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে নজর কাড়ে।
বিশেষ করে ড. ইউনূসকে ঘিরে চলমান বিতর্কে তিনি যেভাবে আলোচনায় আসছেন, তাতে প্রশ্ন উঠছে-
এই সাক্ষাৎ অনুরোধের পেছনে কেবল রাজনৈতিক স্বচ্ছতা না, ভবিষ্যতের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়েও একধরনের মেরুকরণ তৈরি হচ্ছে কি না।

 


এ জাতীয় আরো খবর