সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

মোদিকে ‘টেমু সংস্করণ নেতানিয়াহু’ বললেন বিলাওয়াল, তুলনায় উঠে এলো চীন, ইসরাইল ও কাশ্মির প্রসঙ্গ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৪ ১৪:৫১:৩০
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ৪ জুন ২০২৫
পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) চেয়ারম্যান বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে তুলনা করেছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে, তবে এক ব্যঙ্গাত্মক রূপকে-যেখানে মোদিকে তিনি আখ্যায়িত করেছেন নেতানিয়াহুর "টেমু সংস্করণ" হিসেবে।
নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে বিলাওয়াল বলেন, “মোদি হচ্ছেন নেতানিয়াহুর মতো, তবে তিনি হচ্ছেন টেমু সংস্করণ-কমদামি কপি।”
‘টেমু’ মূলত একটি চীনা অনলাইন মার্কেটপ্লেস, যেখানে স্বল্প মূল্যের পণ্য বিক্রি হয়। কিন্তু এই কমদামি পণ্যের মান নিয়েও রয়েছে বিস্তর বিতর্ক। অনেক সময় এসব পণ্যকে মূল ব্র্যান্ডের নিম্নমানের অনুকরণ হিসেবে দেখা হয়।
বিলাওয়াল ভুট্টো এই প্রেক্ষিতেই মোদিকে নেতানিয়াহুর একটি "কমদামি ও কম মানের অনুকরণ" হিসেবে উপস্থাপন করেছেন, ইঙ্গিত করেছেন উগ্র জাতীয়তাবাদ ও দমননীতির প্রতি মোদির ঝোঁকের দিকে।
বক্তব্যে বিলাওয়াল মোদিকে আখ্যায়িত করেন "কাশ্মিরের কসাই" হিসেবে। তাঁর দাবি, কাশ্মিরে মোদি সরকার যে দমননীতি প্রয়োগ করেছে, একই কৌশল তিনি প্রয়োগ করছেন সিন্ধু উপত্যকায়।
তাঁর ভাষায়, “মোদি কাশ্মিরে যা করেছেন, তারই প্রতিফলন আমরা সিন্ধুতে দেখতে পাচ্ছি। এটি মানবাধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।”
সন্ত্রাসবাদ মোকাবেলায় একটি চমকপ্রদ প্রস্তাবও দিয়েছেন বিলাওয়াল ভুট্টো। তিনি বলেন, ভারতের ‘র’ ও পাকিস্তানের ‘আইএসআই’ যদি একত্রে কাজ করে, তবে দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমে যেতে পারে।
“আমরা চাই, ভারত ও পাকিস্তান দুই দেশই পরস্পরের শত্রু না হয়ে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সহযোগিতা করুক। এই অঞ্চলের সাধারণ মানুষের শান্তিই হওয়া উচিত আমাদের মূল লক্ষ্য।”
ভারত-পাকিস্তান সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই স্পর্শকাতর। বিশেষ করে কাশ্মির ইস্যু, সীমান্ত সংঘর্ষ এবং সন্ত্রাসবাদ নিয়ে উভয় দেশের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। এর মধ্যে বিলাওয়ালের এমন মন্তব্য কূটনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিলাওয়ালের এই মন্তব্য নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এর আগে এমন বক্তব্যে ভারত সরকার কড়া জবাব দিয়ে আসায় ধারণা করা হচ্ছে, এবারও প্রতিক্রিয়া আসতে পারে।
বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির বক্তব্য একদিকে রাজনৈতিক প্রতিবাদের ভাষা, অন্যদিকে তা আবার আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক পরিবেশে উত্তেজনা বাড়ানোর ইঙ্গিত বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ভারত-পাকিস্তান, ইসরাইল-ফিলিস্তিন এবং দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা প্রশ্নে এই ধরনের তুলনা ও বক্তব্য কতটা ফলপ্রসূ, তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।

 


এ জাতীয় আরো খবর