ঢাকা | ৪ জুন ২০২৫
আন্তর্জাতিক রাজনীতির সবচেয়ে ক্ষমতাধর মঞ্চগুলোর একটি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে ২০২৬–২৭ মেয়াদের জন্য পাঁচটি নতুন অস্থায়ী সদস্য দেশ যোগ দিচ্ছে। সদ্য অনুষ্ঠিত ভোটে যেসব দেশ নির্বাচিত হয়েছে, তারা হলো-বাহরাইন, কলম্বিয়া, কঙ্গো, লাটভিয়া এবং লাইবেরিয়া।
এই পাঁচ দেশ আগামী বছরের শুরুতে সিয়েরা লিওন, আলজেরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া, গায়েনা এবং স্লোভেনিয়ার স্থলাভিষিক্ত হবে।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ বিশ্বের একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যার মাধ্যমে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা শান্তিরক্ষী মিশন অনুমোদন করা হয়।
সংস্থাটির ১৫ সদস্যের মধ্যে ৫টি স্থায়ী (যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স), যাদের রয়েছে ভেটো ক্ষমতা, আর বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য প্রতি দুই বছর মেয়াদে নির্বাচিত হন।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ভোটে নতুন পাঁচটি সদস্যই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে:
বাহরাইন: ১৮৬ ভোট
কঙ্গো: ১৮৩ ভোট
লাইবেরিয়া: ১৮১ ভোট
কলম্বিয়া: ১৮০ ভোট
লাটভিয়া: ১৭৮ ভোট
এই ফলাফল জাতিসংঘের ১৯৩ সদস্য দেশের ভোটে গৃহীত হয়, যেখানে নির্বাচিত হতে কমপক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ ভোট প্রয়োজন হয়।
নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী আসনগুলো ভৌগলিক অঞ্চলভিত্তিক কোটা অনুযায়ী বরাদ্দ হয়-যেমন আফ্রিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক, পূর্ব ইউরোপ, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপ গ্রুপ।
এবারকার নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে রয়েছে:
আফ্রিকা থেকে: লাইবেরিয়া, কঙ্গো
লাতিন আমেরিকা থেকে: কলম্বিয়া
পূর্ব ইউরোপ থেকে: লাটভিয়া
আরব উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে: বাহরাইন
এই আঞ্চলিক বৈচিত্র্য বিশ্বের বিভিন্ন সংকটে ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও কূটনৈতিক অবস্থান আনার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদের ৮০তম অধিবেশন (শুরু সেপ্টেম্বর ২০২৫) পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন জার্মানির সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনালেনা বায়েরবোক।
আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অভিজ্ঞ ও স্পষ্টভাষী এই নেত্রীর নেতৃত্বে জাতিসংঘের কার্যক্রমে পরিবেশ, মানবাধিকার ও জেন্ডার সমতা ইস্যু আরও জোরালোভাবে উঠে আসবে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
কেন গুরুত্বপূর্ণ এই পাঁচ দেশ?
???? বাহরাইন: মধ্যপ্রাচ্যের ছোট কিন্তু কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ইরান-সৌদি প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ইয়েমেন যুদ্ধ এবং উপসাগরীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে।
???? কলম্বিয়া: লাতিন আমেরিকায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও শান্তি প্রক্রিয়ায় ভূমিকা রাখতে পারে।
???? কঙ্গো ও লাইবেরিয়া: আফ্রিকার সংকটপ্রবণ অঞ্চলগুলোতে শান্তিরক্ষা ও মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে সরব অবস্থান নিতে পারে।
???? লাটভিয়া: রাশিয়ার প্রতিবেশী হওয়ায় ইউক্রেন যুদ্ধ, বাল্টিক নিরাপত্তা ও ইউরোপের অভ্যন্তরীণ কূটনীতি নিয়ে লাটভিয়ার ভূমিকা নজরকাড়া হতে পারে।
নতুন পাঁচটি সদস্য যোগ দিলেও নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামোগত সংকট থেকেই যাচ্ছে।
বিশেষ করে ভেটো ক্ষমতা ও স্থায়ী সদস্যদের আধিপত্য নিয়ে বহু বছর ধরেই সমালোচনা চলছে। আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার মতো জনবহুল অঞ্চল থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি না থাকাও 'গ্লোবাল সাউথ'-এর স্বার্থ উপেক্ষা করার অভিযোগ আরও দৃঢ় করেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে এই পাঁচটি দেশের প্রবেশ সামনের দুই বছর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মোড় আনতে পারে-বিশেষ করে বিশ্ব উত্তেজনা, জলবায়ু সংকট, এবং যুদ্ধ-সংঘাতের সময়কালে।
তবে তারা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, আর কতটা স্থায়ী সদস্যদের ছায়ায় থেকে যাবে-তা সময়ই বলে দেবে।
তথ্যসূত্র: জাতিসংঘ প্রেস রিলিজ, আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স