রবিবার, মে ১৭, ২০২৬

জেনিনে কূটনীতিকদের ওপর গুলি: ইসরায়েলি বাহিনীর ‘সতর্কতা’ না ‘সোজাসুজি টার্গেট’?

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-২২ ০০:৪২:২৭
ছবি সংগৃহিত
পশ্চিম তীরের সংঘাতকবলিত জেনিন শহরে ফিলিস্তিনি বাস্তবতা পর্যবেক্ষণে যাওয়া বিদেশি কূটনীতিকদের ওপর ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলিবর্ষণ নতুন করে উত্তেজনার জন্ম দিয়েছে। ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও একে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক রীতিনীতির লঙ্ঘন ও সরাসরি একটি ‘সঙ্কেতমূলক হুমকি’ হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বুধবার জেনিন শরণার্থী শিবিরের পাশে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সহায়তায় একটি ইউরোপীয় কূটনৈতিক প্রতিনিধি দল সফর করছিল। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা সাংবাদিকদের ভিডিওতে দেখা যায়-হঠাৎ গুলির শব্দ শুরু হলে কূটনীতিক ও সাংবাদিকরা আতঙ্কে দৌড়াতে শুরু করেন। ঘটনাস্থলে থাকা এএফপির একজন সাংবাদিক জানান, শিবিরের দিক থেকেই গুলির শব্দ আসছিল।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, কূটনৈতিক দলটি অনুমোদিত সীমা অতিক্রম করে ‘নিষিদ্ধ অঞ্চলে’ প্রবেশ করায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সেনারা সতর্কতামূলক গুলি চালায়। তারা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও ‘ইচ্ছাকৃত গুলি’ চালানোর অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে।
তবে ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে "একটি গুরুতর অপরাধ" হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, “এটি ছিল অনুমোদিত কূটনৈতিক প্রতিনিধিদের সরাসরি লক্ষ্য করে চালানো হামলা।”
সফররত ইউরোপীয় প্রতিনিধিদের একজন জানান, “আমরা শিবির সীমান্তে ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ গুলির শব্দে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। আমরা দৌড়ে গাড়িতে ফিরে যাই।”
ঘটনার সময় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আহমাদ আল-দিক। তিনি বলেছেন, “এই আক্রমণ শুধু কূটনৈতিক আচরণের লঙ্ঘন নয়, বরং এটি বোঝায়-ইসরায়েলি বাহিনী কীভাবে দৈনন্দিনভাবে ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে আচরণ করে।”
ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাবাহিনীর পোশাক পরা দুজন অস্ত্র তাক করে দাঁড়িয়ে আছেন একটি ধাতব গেটের ওপারে, এবং সেই মুহূর্তে গুলির শব্দ শোনা যায়। যদিও ভিডিওর সত্যতা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা যায়নি, তবে ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকরা একে শিবিরের পূর্ব প্রবেশদ্বার হিসেবে শনাক্ত করেছেন।
ইতালি ও স্পেন দ্রুত নিন্দা জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে। অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য না করলেও কূটনৈতিক সূত্রগুলো বিষয়টিকে ‘উদ্বেগজনক ও তদন্তযোগ্য ঘটনা’ হিসেবে অভিহিত করেছে।
জানুয়ারিতে ইসরায়েল জেনিনে একটি বড় আকারের সামরিক অভিযান শুরু করে, যার লক্ষ্য ‘সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নির্মূল’। ওই অভিযানে ইতিমধ্যে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বাসিন্দা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ জানায়, ৩১ মার্চ পর্যন্ত এই অভিযানেই জেনিন থেকে অন্তত ১৬ হাজার মানুষ ঘরছাড়া হয়েছেন।
জেনিনে সামরিক দমন-পীড়নের বাস্তব চিত্র দেখতে গিয়ে কূটনীতিকরাও যদি গুলির মুখে পড়েন, তাহলে সাধারণ ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা কতটা সুরক্ষিত-এ প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে এই ঘটনা।
এই ঘটনায় ইসরায়েল কূটনৈতিক চাপে পড়লেও, পশ্চিম তীরের সামরিক নিয়ন্ত্রণ ও দমন অভিযান বন্ধ হওয়ার কোনো লক্ষণ এখনো দেখা যাচ্ছে না।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত তথ্যছক
সময় বুধবার, ২১ মে
স্থান-জেনিন, পশ্চিম তীর
ঘটনা-কূটনৈতিক দল লক্ষ্য করে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিবর্ষণ
ইসরায়েলের অবস্থান-‘সতর্কতামূলক গুলি’, অননুমোদিত প্রবেশের জন্য দুঃখ প্রকাশ
ফিলিস্তিনের অভিযোগ-ইচ্ছাকৃত টার্গেট, ‘কূটনৈতিক অপরাধ’
হতাহত-নেই
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া- ইতালি ও স্পেনের নিন্দা, ইউরোপীয় ইউনিয়নের উদ্বেগ
বাস্তুচ্যুত-জানুয়ারি–মার্চে জেনিনে প্রায় ১৬,০০০ ফিলিস্তিনি

এ জাতীয় আরো খবর