বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের সাক্ষী হলো বিশ্ববাসী।৫১ বছর পর উত্তর আমেরিকার তিন দেশে চার মিনিটের বেশি সময় দিন হলো অন্ধকার। যা উপভোগ করেন আমেরিকা, কানাডা ও মেক্সিকোর কয়েক কোটি মানুষ। সূর্যের পোশাক পড়ে নেচেগেয়ে উপভোগ করেন তারা। আমেরিকার মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা বলছে, ২০৪৪ সালের আগে এমন দীর্ঘস্থায়ী পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ আর দেখা মিলবে না।
উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু জায়গায় সোমবার ভরদুপুরেই যেন নেমে এসছিলো সন্ধ্যা। পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের কারণে দিনের বেলাতেও আঁধারে ঢেকে গিয়েছিলো চারপাশ। আকশের দিকে তালিয়ে বিস্ময়ের সাথে এই দৃশ্য উপভোগ করেন কয়েক কোটি মানুষ। মেতে ওঠেন নাচ-গান আর আনন্দ-উল্লাসে।
সূর্য ও পৃথিবীর মধ্যকার কক্ষপথে চাঁদের আগমনে সৃষ্ট ছায়ায় পৃথিবীর একটা অংশ সম্পূর্ণ ঢেকে তৈরি হয় পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ। সে দৃশ্য প্রথম দেখতে মেক্সিকোর সমুদ্রসৈকত লাগোয়া মাজাতলান শহরে ভিড় করে হাজার হাজার মানুষ। মেক্সিকোর প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল থেকে টেক্সাস হয়ে কানাডায় এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রের ১৪টি রাজ্যে দৃশ্যমান হয় সূর্যগ্রহণ। তবে সব স্থান থেকে পূর্ণগ্রাস গ্রহণ দেখা যায়নি।
নাসার তথ্য অনুসারে, এবারের পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের বিশেষত্ব হলো এর স্থায়িত্ব। টানা চার মিনিট সূর্যগ্রহণ দেখতে পেয়েছেন উত্তর আমেরিকার বাসিন্দারা। যা গত ৫০ বছরে কখনো হয়নি। এমন সুর্যগ্রহণ ২০৪৪ সালের আগে আর দেখা যাবে না।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, প্রায় চার কোটি মানুষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ স্বচক্ষে দেখতে তিন দেশের বিভিন্ন এলাকায় সমবেত হয়েছিলেন। সবচেয়ে বেশি ভিড় জমেছিলো কানাডার নায়াগ্রা জলপ্রপাত সংলগ্ন এলাকায়। এছাড়াও স্পেন, যুক্তরাজ্য, পর্তুগালসহ আরো কয়েকটি দেশের নাগরিকরা এদিন আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখেছে।