মেধাবীদের উৎসাহিত করা এবং তাদের যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন করা গেলে এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর মতে, এতে দেশ ও দেশের মানুষ উভয়ই উপকৃত হবে।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার পাওয়া বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বৃহস্পতিবার তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের বিষয়টি জানান।
পুরস্কার বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যে অর্জন করেছেন, তা শুধু ব্যক্তিগত সাফল্য নয়; দেশের মানুষের জন্যও গৌরবের বিষয়। তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন,এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’
মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে উৎসাহিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতার মাধ্যমে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।
তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে,সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়ার বিষয়টি সরকারের মেধাবীদের উৎসাহিত করার নীতির অংশ বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষকরা তাঁদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে সম্ভাব্য সমাধানের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন,‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী,যদি সম্ভব হয়,ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব,আমরা সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতাসহ এ ধরনের আয়োজনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী জানালে সরকারের পক্ষ থেকে সম্ভবপর সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।
তারেক রহমান বলেন,‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য,দেশের জন্য,দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে,তবে লক্ষ্য অভিন্ন-দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যাতে মানুষ নিরাপদে ও স্বাভাবিকভাবে জীবনযাপন করতে পারে।
তিনি বলেন,‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এর আগে প্রতিযোগিতায় যে সূরার আয়াত তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার অর্জন করেছেন, সেসব সূরা তাঁদের কণ্ঠে শোনেন।
সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ,তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ,তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন। একইভাবে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ,তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার এবং মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর ও সাজেদা খাতুন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
কোরআন প্রতিযোগিতা, হাফেজ, মেধার স্বীকৃতি