নীলফামারীর জলঢাকায় পৈত্রিক সূত্রে দীর্ঘ ৬৫-৬৬ বছর ধরে ভোগদখলীয় জমি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৭ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ থামাতে জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করা হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের চর হলদিবাড়ী মাস্টার পাড়া গ্রামে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ওই এলাকার মৃত আবেতুল্লাহর দুই ছেলে জসিম উদ্দিন ও কছিম উদ্দিন এবং তাদের উত্তরাধিকারী সোলায়মান ও আব্দুর রশিদসহ ৬ ভাই পৈত্রিক সূত্রে প্রায় ৩১০ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের অভিযোগ, একই এলাকার আনসার আলীর ছেলে শহিদুল গং উক্ত পরিবারের কোনো আত্মীয় বা গোত্রীয় না হওয়া সত্ত্বেও ‘সামিল রেকর্ড’ এর অজুহাত দেখিয়ে ওই জমির মালিকানা দাবি করে আসছিলেন। এরই জেরে গত শুক্রবার গভীর রাতে শহিদুল হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে রোপণ করা আমন ধানের ক্ষেত উপড়ে ফেলে ব্যাপক ক্ষতিসাধন করেন।
সকালে ধানের চারা উপড়ে ফেলার কারণ জানতে গেলে প্রতিপক্ষের হামলায় জসিম ও কছিম উদ্দিনের পরিবারের শরিফুল ইসলাম, শাফিন ও বিউটি বেগম সহ উভয় পক্ষের কমপক্ষে ৭ জন গুরুতর আহত হন। সংঘর্ষের মাত্রা বেড়ে গেলে স্থানীয়রা জরুরি সেবা ৯৯৯ এ কল করেন। খবর পেয়ে জলঢাকা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
পরে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বর্তমানে তারা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত প্রতিপক্ষ শহিদুল ইসলাম জানান, ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। জমি সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও তিনি দাবি করেন, প্রতিপক্ষ আমাদের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে ভাঙচুরের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে সোলাইমানসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রতিপক্ষ নিজেদের অপরাধ ঢাকতে ও মামলা থেকে বাঁচতে এখন নানা রকম মিথ্যা অজুহাত ও নতুন পরিকল্পনা করছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় বর্তমানে থমথমে অবস্থা ও চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।
জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম জানান, ঘটনার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।