মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০২৬

মদিনায় ১১ কোটি টন দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-১৫ ১১:১৪:০৯
ছবি: সংগৃহীত।

সৌদি আরবের মদিনা অঞ্চলে বিপুল পরিমাণ দুর্লভ মৃত্তিকা খনিজ ও ইউরেনিয়ামসমৃদ্ধ আকরিকের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ৭০তম সাধারণ সম্মেলনে সৌদি আরবের জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমান এ তথ্য জানান।
সৌদি আরবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাঈদ এলাকায় ভূতাত্ত্বিক জরিপ ও খনিজ অনুসন্ধানের সময় ভারী দুর্লভ খনিজ উপাদান এবং উল্লেখযোগ্য ঘনত্বের ইউরেনিয়ামের সন্ধান পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এ আবিষ্কার দেশটির খনিজ ও পারমাণবিক জ্বালানি খাতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে।
এর কয়েক মাস আগে গত ২২ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট ও সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আব্দুলআজিজ বিন সালমানের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন প্রযুক্তি ও বিনিয়োগের সহায়তায় সৌদি আরবের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহযোগিতার সুযোগ আরও বিস্তৃত হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বরে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময় খনিজ খাতে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। ওই সফরে সৌদি রাষ্ট্রীয় খনি কোম্পানি মাআদেন ও মার্কিন প্রতিষ্ঠান এমপি ম্যাটেরিয়ালসের মধ্যে একটি অংশীদারত্ব চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় নির্মাণের পরিকল্পনা থাকা একটি খনিজ প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানার ৪৯ শতাংশ অর্থায়নে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিভাগ সম্মত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জেদ্দা থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার উত্তর-পূর্বে অবস্থিত জাবাল সাঈদকে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ খনিজ অঞ্চলগুলোর একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ওই এলাকায় প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী দুর্লভ খনিজ, ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন হালকা দুর্লভ খনিজ এবং প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবে বিদ্যমান এসব খনিজ সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালের হিসাবের তুলনায় এ মূল্য প্রায় ৯০ শতাংশ বেশি বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সৌদি আরবের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা আরও দুটি উন্নত খনিজ অঞ্চল শনাক্ত করেছে, যেগুলোর সম্মিলিত ধারণক্ষমতা প্রায় ৬৪ কোটি ৪০ লাখ টন বলে জানানো হয়েছে। নতুন এসব অনুসন্ধান ও আবিষ্কার দেশটির খনিজ সম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং পারমাণবিক জ্বালানি খাতে ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে আরও বাড়াতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।

সৌদি আরব, দুর্লভ খনিজ, ইউরেনিয়াম


এ জাতীয় আরো খবর