রাণীনগর (নওগাঁ) প্রতিনিধি
নওগাঁর রাণীনগরে আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে যোগদান করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েল। একদল লোক তাকে কলেজের অফিসকক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে বেধড়ক মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তার এক হাত ও এক পা ভেঙে গেছে। একই সময় কলেজ চত্বরে তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলেও আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার দুপুর সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অধ্যক্ষকে উদ্ধার করে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি রাণীনগর উপজেলার রাতোয়াল গ্রামের বাসিন্দা।
কলেজ সূত্রে জানা গেছে, চাকরি দেওয়ার নামে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগসহ বিভিন্ন অভিযোগে কয়েকজন ভুক্তভোগী ৫ আগস্টের পর বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত এবং ৫ আগস্টের পর কলেজে অনুপস্থিত থাকার বিষয় উল্লেখ করে অধ্যক্ষ জিএম মাসুদ রানা জুয়েলকে প্রায় দুই বছর আগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েল উচ্চ আদালত থেকে চাকরিতে পুনর্বহালের আদেশ পান। সেই আদেশের পর কলেজের বর্তমান সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী রোববার তিনি দায়িত্বে যোগ দিতে আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ে যান।
কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সালাউদ্দীন আহম্মেদ বলেন, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে অধ্যক্ষ মাসুদ রানা জুয়েল অফিসকক্ষে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় বেশ কয়েকজন লোক সেখানে প্রবেশ করে তাকে অফিসকক্ষ থেকে টেনে-হিঁচড়ে বের করে মারধর শুরু করে। একপর্যায়ে কলেজ চত্বরে থাকা তার মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। পরে আহত অধ্যক্ষকে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
তবে হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারেননি।
অধ্যক্ষের ভাই প্রিন্স আহম্মেদ অভিযোগ করে বলেন, কলেজে যোগদান করতে যাওয়ার সময় তার ভাই মাসুদ রানা জুয়েলকে এবং তাকেও কয়েকজন লোক মারধর করেন। হামলাকারীদের মারধরে তার ভাইয়ের এক হাত ও এক পা ভেঙে গেছে। পরে মোটরসাইকেলটিতে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তার ভাই নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
আবাদপুকুর মহাবিদ্যালয়ের সভাপতি ও রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসান বলেন, তিনি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিটিংয়ে ছিলেন। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছ থেকে হামলার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনায় কারা জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রাণীনগর থানার ওসি জাকারিয়া মন্ডল বলেন, অধ্যক্ষকে মারধর এবং তার মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত এ ঘটনায় থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর কলেজ চত্বরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। একজন অধ্যক্ষকে কলেজে যোগদান করতে এসে প্রকাশ্যে হামলার শিকার হওয়া এবং তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে হামলার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের পরিচয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।