রবিবার, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৬

গ্রিনল্যান্ডে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সমঝোতা,ট্রাম্পের ঘোষণা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৬-০৯-১৯ ০৯:২৩:২২
ফাইল ছবি

গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও কৌশলগত অবস্থানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র, ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দেওয়া ঘোষণায় তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে এবং দ্বীপটিতে মার্কিন প্রতিপক্ষদের সামরিক ও কৌশলগত তৎপরতার ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে বলেন,ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এমন একটি ব্যবস্থা করা হয়েছে,যা গ্রিনল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনকে দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ দেবে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, সমঝোতার কোনো নির্দিষ্ট মেয়াদ থাকবে না।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও সমঝোতাটিকে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত উদ্বেগের দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, গ্রিনল্যান্ড উত্তর আমেরিকার কৌশলগত প্রতিরক্ষা এলাকার অংশ হিসেবে থাকবে এবং সেখানে কোনো প্রতিপক্ষকে সামরিক উপস্থিতি গড়ে তোলার সুযোগ দেওয়া হবে না।
মার্কিন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী,সমঝোতার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রবেশাধিকার,সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং আকাশসীমা ব্যবহারের অধিকার থাকবে। ন্যাটোর বাইরের দেশগুলোকে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক ঘাঁটি স্থাপনের সুযোগ না দেওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বাইরে অন্য দেশগুলোর সংবেদনশীল বিনিয়োগের ওপরও বিধিনিষেধ থাকবে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও কার্যকর রাখার কথা বলা হয়েছে। তবে কতটি নতুন সামরিক স্থাপনা তৈরি হবে কিংবা সমঝোতার অন্যান্য বিস্তারিত শর্ত কী, তা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সমঝোতাটি উত্তর আটলান্টিক ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদারে ভূমিকা রাখবে। গ্রিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ইয়েন্স-ফ্রেডেরিক নিলসেনও বলেছেন, এতে গ্রিনল্যান্ডের স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতায় দ্বীপটির অবস্থানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
গ্রিনল্যান্ড বর্তমানে ডেনমার্কের স্বশাসিত অঞ্চল। দ্বীপটির রাজনৈতিক পরিসরে দীর্ঘদিন ধরেই স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের চাপ ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি করেছিল।
নতুন সমঝোতা অবশ্য গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নয়। বরং প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, এর মূল বিষয় হলো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অধিকার বাড়ানো। ১৯৫১ সালের প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে গ্রিনল্যান্ডে সামরিক উপস্থিতি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা ব্যবহারের অধিকার পেয়ে আসছে। পরবর্তী চুক্তিগুলোতেও এই সহযোগিতার কাঠামো আরও নির্দিষ্ট করা হয়েছে।
আর্কটিক অঞ্চলে চীন ও রাশিয়ার মতো যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর সামরিক বা কৌশলগত উপস্থিতি সীমিত রাখাও নতুন সমঝোতার অন্যতম উদ্দেশ্য বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। তবে পূর্ণাঙ্গ লিখিত চুক্তি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এর সব শর্ত, আইনি কাঠামো এবং বাস্তব প্রয়োগের পরিধি পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।

গ্রিনল্যান্ড, ট্রাম্প, আর্কটিক নিরাপত্তা


এ জাতীয় আরো খবর